এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : যশোরে চলন্ত মোটরসাইকেলে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে ছিলেন তারই একমাত্র জামাতা বাসেদ আলী পরশ। শ্বশুরের অগাধ সম্পত্তি ও দামি গাড়ির প্রতি লোভ এবং স্ত্রীর ওপর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকেন তিনি।
এই পরিকল্পনায় তার সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় আসাবুল ইসলাম সাগর নামের এক যুবক, যার সঙ্গে নিহত আলমগীরের পূর্বশত্রুতা ছিল। তবে তারা কেউ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি। ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যা মিশন সফল করে তারা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে মোটরসাইকেলযোগে শংকরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন। তিনি শংকরপুর বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। চলন্ত অবস্থায় তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ৯-১০ বছর আগে আলমগীরের মেয়ের সঙ্গে পরশের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। মাঝখানে বিচ্ছেদ হলেও পরে তারা আবার সংসার শুরু করেন। তবে সম্প্রতি পরশ আবারও যৌতুকের জন্য শ্বশুরকে চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে আলমগীরের মেয়ে তার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকেই পরশ তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মূলত শ্বশুরের জমি কেনাবেচার ব্যবসা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতেই তিনি এই পথ বেছে নেন।
হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী সাগর এক সময় চরমপন্থি নেতার বডিগার্ড ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর আলমগীরের ভাইয়ের বাড়ি ভাঙচুর করতে গেলে সাগরের সঙ্গে আলমগীরের কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া সাগরের স্ত্রী আলমগীরসহ চার পুলিশ সদস্যের নামে মামলাও করেছিলেন। সাগর নিয়মিত ফেসবুকে আলমগীরের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক শত্রুতাই পরশ ও সাগরকে এক সুতোয় গেঁথেছিল।
এই ঘটনায় নিহত আলমগীরের স্ত্রী শামীমা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় জামাতা পরশকে প্রধান আসামি এবং সাগরসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পরশ ও সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এটি মূলত পারিবারিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং প্রয়োজনে সিআইডির সহায়তা নেয়া হবে। ভাড়াটে খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
রোববার বিকেলে শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে আলমগীর হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর নগর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ‘গ্রিন ল্যান্ড রিয়েলস্টেট’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।