আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আজ আমি ভারতকে স্যালুট জানাই। ভারতের বিদেশ নীতি সবসময়ই একটি স্বাধীন চিন্তা রেখেছে। ভারত কোয়াডের সদস্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অন্যতম সদস্য। কিন্তু তবুও ভারত নিজেকে নিরপেক্ষ বলে। নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে ভারত। কারণ ভারতের বিদেশ নীতি সেদেশের জনগণের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন ইমরান খান।
উপরোক্ত বক্তব্যটি এমন একজন ব্যক্তি দিয়েছেন যার নাম শুনে হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবেন না! ভারতকে নিজেদের চিরশত্রু ভাবা যে ব্যক্তি সর্বদা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেন, যিনি কিনা মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক তেমন একজন ব্যক্তির মুখেই ভারত ও মোদি সরকারের প্রশংসা ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির খাইবার-পাকতুনখাওয়া প্রদেশে এক জনসভায় এই বক্তব্য দিয়েছেন। ওই জনসভায় নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতিরও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট ছিলো যে, পূর্বে পাকিস্তানের বিদেশ নীতি নিজ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নেয়া হয়নি, অন্যদেশের সুবিধা বা হুকুম পালনের নিমিত্তে নানা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে ভারতকে নিয়ে এমন স্তুতিমূলক বক্তব্যের পর গোটা রাজনৈতিক মহলে চলছে নানামুখী আলোচনা কিন্তু সেসব আলোচনায় যাবার আগে ইমরান খান কোন প্রেক্ষিতে ভারতের প্রশংসা করেছেন তা জানা দরকার! বস্তুত ইমরান খান বা পাকিস্তানের কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের এভাবে খোলাখুলি ভারতের প্রশংসা করাটা একেবারে বিরল! তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়টাতে মোদি সরকার যে দারুণ কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তা প্রশংসিত হচ্ছে এখন সর্বমহলে।
মার্কিন সতর্কতা সত্ত্বেও নিজ দেশের জনগণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের কোন ধরণের বক্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে রাশিয়া থেকে কম দামে বেশি তেল কিনছে ভারত। রাশিয়া থেকে ইতিমধ্যে ২০ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনকারী সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (এইচপিসিএল)। ইউরোপের জ্বালানি কোম্পানি ভিটল থেকে কেনা এই তেল আগামী মে মাসে ভারতের হাতে পৌঁছাবে।
এমন সাহসী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপের জন্য শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীই না বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও মোদী সরকার বাহবা পাচ্ছে। হঠাৎ করেই কী এমন ঘটলো যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করছেন! এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। যারা পাকিস্তানের রাজনীতির খোঁজ রাখেন তাদের হয়ত জানার কথা, পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে আছেন।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হওয়ার সময় ইমরান খানের এই বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন করে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ইমরান খান উত্তীর্ণ হতে পারবেন কিনা সে আলোচনা সর্বমহলে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এবার গদি বাঁচানো প্রায় অসম্ভব। অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য ২৫ মার্চ শুক্রবার পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন আহ্বান করেছেন স্পিকার আসাদ কায়সার। এই ভোটাভুটিতে ইমরানের পক্ষে গদি বাঁচানো মুশকিল। সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস