বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০২২, ১২:৫০:২৪

রাশিয়ার উপর তুরস্কের এই প্রভাবে শান্তির পথে ইউক্রেন যুদ্ধ!

রাশিয়ার উপর তুরস্কের এই প্রভাবে শান্তির পথে ইউক্রেন যুদ্ধ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধ শুরু পর থেকে বেলারুশে চার দফা বৈঠকেও 'শান্তির পথ' খোলেনি কিন্তু তুরস্কে মঙ্গলবার রাশিয়া-ইউক্রেনের আলোচনা শুরুর পরেই দেখা গেল নাটকীয় পটপরিবর্তন। যুদ্ধের ৩৪তম দিনে ইউক্রেনের রাজধানী কিভ এবং চেরনিহিভ শহর দখলের অভিযানে আপাতত রাশ টানতে সম্মত হল ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন দখলের অভিযানে সাময়িক ইতি টানতে রাজি হলেন, তার নানা 'ব্যাখ্যা' শোনা যাচ্ছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মুখে। আর সেই সঙ্গে অনিবার্য ভাবে উঠে আসছে তুরস্কের ভূমিকার কথা। দেড় বছর আগেও একই ভাবে মস্কোর উপর আঙ্কারার 'প্রভাব' দেখা গিয়েছিল। ২০২০ সালের শেষে নগোর্নো কারাবাখের দখল ঘিরে আজেরবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধের সময় প্রকাশ্যে আজেরবাইজানকে সামরিক সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। 

যদিও পুতিনের সমর্থন ছিল আর্মেনিয়ার দিকে। দু'মাসের যুদ্ধে আর্মেনিয়া কোণঠাসা হয়ে পড়ে শান্তির পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছিল। এবার মস্কো-কিয়েভ আলোচনার চলাকালীনই তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী যেভাবে আগ বাড়িয়ে 'শান্তির পথে অগ্রগতি'র কথা ঘোষণা করেছেন, তা 'তাৎপর্যপূর্ণ' বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। অনেকের মতে, রাশিয়ার উপর তুরস্কের এই প্রভাবের পিছনে রয়েছে ভৌগলিক অবস্থান। 

রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রাইমিয়ার সেবাস্তিপোল বন্দরের সঙ্গে ইউরোপের জলপথ যোগাযোগের একমাত্র পথ হল কৃষ্ণসাগর হয়ে তুর্কী প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সংযোগ ঘটা এই কৃষ্ণ সাগরের তীরে পূর্ব ইউরোপের এবং ককেশাসের ৭টি দেশ রয়েছে। রাশিয়ার হাতে থাকা এক মাত্র সেবাস্তিপোল বন্দরই উষ্ণ স্রোতের কারণে সারা বছর সচল থাকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তুর্কি প্রণালী বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যেই তুরস্কের কাছে আবেদন জানিয়েছে নেটোর একাধিক সদস্যরাষ্ট্র। ফলে শঙ্কা ছিল মস্কোর।

তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ডনবাসকে 'স্বশাসন' দেওয়ার রুশ প্রস্তাব বিবেচনায় রাজি হয়েছে কিয়েভ। এ ছাড়া, ২০১৪ সালের যুদ্ধে ইউক্রেনের হাত থেকে বেদখল হওয়া ক্রাইমিয়াকে তাদের দেশের অংশ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হোক বলেও দাবি করেছিলেন পুতিন। সে বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। আলোচনায় ক্রাইমিয়ার পথে পশ্চিম ইউরোপে রুশ গ্যাস পাইপলাইন বসানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে