আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাত্র প্রচুর, পাত্রী বাড়ন্ত! ফলত ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অবিবাহিত যুবকদের সংখ্যা। এমনই অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে মহারাষ্ট্রের একটি ছোট জেলায় পাতিদার গোষ্ঠীর লেভা পাতিল সম্প্রদায়ে। এই জেলায় প্রায় অর্ধেক যুবকের বয়স ৩০ বছরের বেশি এবং তাঁরা অবিবাহিত। এবং যোগ্য পুরুষের সংখ্যা পাত্রীর চেয়ে ঢের বেশি।
এই সমস্যার সমাধানের উপায় খুঁজতে খুঁজতে এক অনন্য পন্থা নিয়েছেন জলগাঁও জেলার ভুসাভাল অঞ্চলের লেভা পাতিল গো'ষ্ঠীর মানুষ। গ্রাম পঞ্চায়েত এই জেলার অবিবাহিত যুবকদের বিয়ের জন্য অনাথাশ্রম থেকে মহিলাদের নির্বাচন করা শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, এই মহিলাদের তথাকথিত সামাজিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার জন্য, বিয়ের আগেই বরদের তাঁদের ৩০% থেকে ৫০% সম্পত্তি নিজের বউয়ের নামে বন্ধক রাখতেও বলা হয়েছে।
ভোরগাঁও লেভা পাতিল সম্প্রদায়ের মানুষরা দীর্ঘদিন ধরেই পাত্রীর সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরেও নাজেহাল হচ্ছেন। এই বছর ১৯০ জন নারীর নাম বিয়ের জন্য নথিভুক্ত হয়েছে। উল্টোদিকে ৬২৫ জন পুরুষ বিয়ের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। গত কয়েক বছর ধরেই বর-কনের সংখ্যার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান লক্ষ্য করা গিয়েছে।
তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, অনাথ আশ্রম থেকে মহিলাদের বিয়ে করে তাঁদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করার এবং এই সম্প্রদায়ের পুরুষদের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে পঞ্চায়েত যে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে এই জটিল সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে। পাশের চালিশগাঁও গ্রামে ইতিমধ্যেই এমন বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
যদি আইনি অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে অনাথাশ্রমের মহিলারা লেভা পাতিল সম্প্রদায়ের যুবকদের বিয়ে করতে পারবে। যদি বিবাহ-পরবর্তী দ্বন্দ্ব দেখা দেয় তাহলে স্ত্রীর সামাজিক সুরক্ষা অটুট রাখতে বরের সম্পত্তির ৩০% থেকে ৫০% কনের জন্য আগেভাগেই লিখে রাখতে হবে বলেও ঠিক করা হয়েছে। এই শর্ত পূরণ হলে তবেই বিয়ে হতে পারে। সূত্র: নিউজ এইট্টিন