আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত সপ্তাহে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলা অত্যাসন্ন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছানোর আগেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানান, যেন ইরানের ওপর কোনো হামলা না চালানো হয়।
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জানান, তেহরানের পাল্টা হামলা ঠেকানোর জন্য ইসরাইল এখনই পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, গত সপ্তাহে ইরানে মার্কিন হামলা না চালানোর বড় কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি না থাকা। বিশেষ করে ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তখন ছিল না। কারণ ইসরাইল মূলত ইরানের হামলা ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষ করে গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান যেসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল সেগুলো ঠেকাতে কাজ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বুধবারে ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা ধরেই নিয়েছিলেন যে যেকোনো সময় ইরানে হামলা হতে পারে, যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি আর হয়নি।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের কাছে একটি খুদেবার্তা পাঠান। ওই বার্তার মাধ্যমেও পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা কীভাবে এড়ানো গেছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প নিজেও। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এসময় ইরানে সামরিক হামলা কেন এড়িয়েছেন এমন প্রশ্নে বলেন, সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই নিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, কেউ আমাকে রাজি করায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল আটশর বেশি ফাঁসির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়নি—ফাঁসিগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল