আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপার দামও ১২০ ডলার ছুঁই ছুঁই করছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে বৃহস্পতিবার সোনার দাম প্রতি আউন্সে ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দিনের এক পর্যায়ে দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬১ ডলার ছুঁয়েছে, যা সর্বকালের রেকর্ড।
ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, সরকারি ঋণের চাপ বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা স্বর্ণের ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়নে বাধ্য করেছে বিনিয়োগকারীদের। এখন সোনা আর শুধু সংকট বা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নয়; বরং এটি একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের সোমবার প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে। এ সপ্তাহেই দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। এর পেছনে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী ক্রয়, এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আইজি মার্কেট বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, দামের এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতি দেখে স্বল্পমেয়াদে সংশোধনের আশঙ্কা থাকলেও, ২০২৬ সালজুড়ে সোনার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী থাকবে। ফলে যে কোনো দরপতন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সোনার দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি, এর আগে ২০২৫ সালে দাম লাফিয়ে বেড়েছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ।
অন্যদিকে স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১১৮ দশমিক ০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে রুপার দাম ১১৯ দশমিক ৩৪ ডলার ছুঁয়ে রেকর্ড গড়ে। চলতি বছরে রুপার দাম ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এ ছাড়া, স্পট প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭১০ দশমিক ২০ ডলার হয়েছে। যদিও সোমবার এটি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলার ছুঁয়েছিল। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ২ হাজার ৪৮ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।