বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:১৭:৪২

দুই ঘটনায় হঠাৎ পাল্টে গেল জ্বালানি তেলের বাজার!

দুই ঘটনায় হঠাৎ পাল্টে গেল জ্বালানি তেলের বাজার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের খুব কাছে ইরানি সশস্ত্র নৌযানের এগিয়ে আসার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৭ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই দিন মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৩ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে।

 এর আগের দিন মঙ্গলবারও উভয় সূচক প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছিল। আইএনজিএর পণ্য কৌশলবিদরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় বাজার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ প্রিমিয়াম ধরে রেখেছে, যা দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

 মঙ্গলবার আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের খুব কাছে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ উড়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে মার্কিন সেনাবাহিনী। একই দিন সামুদ্রিক সূত্র ও একটি নিরাপত্তা পরামর্শক সংস্থা জানায়, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালিতে একদল ইরানি গানবোট ওমানের উত্তরে একটি মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে।
 
এদিকে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনা তুরস্কে নয়, ওমানে হওয়া উচিত এবং আলোচনার পরিধি শুধু পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকা দরকার। এতে বৈঠকটি আদৌ পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। রাকুটেন সিকিউরিটিজের পণ্য বিশ্লেষক সাতোরু ইয়োশিদা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তি উত্তেজনাই তেলের বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে।
 
ওপেকভুক্ত সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক তাদের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়েই রফতানি করে, মূলত এশিয়ার বাজারে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান ছিল ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ।
 
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বড় আকারে কমে যাওয়ায় দামের পক্ষে সমর্থন মিলেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির মজুত ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমেছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করবে, যদিও রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া বিশ্লেষকরা মজুত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
 
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তির খবরও তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে, কারণ এতে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় রাশিয়ার তেলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা বাজারকে প্রভাবিত করছে।
 
সাতোরু ইয়োশিদা বলেন, ‘ভারতকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দুটিই তেলের দামকে সমর্থন দিচ্ছে। আপাতত ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হবে।’

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে