আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসায় এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একে মোদির কূটনৈতিক অযোগ্যতা হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা কেন নয়াদিল্লি নয়, করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?– এই প্রশ্নেই চলতি বাজেট অধিবেশনে ভারতের লোকসভায় সরব কংগ্রেস। এর আগে সোমবার রাতে ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুরোধে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল কিনবে ভারত। এছাড়া, মার্কিন পণ্যের শুল্ক কমানোর পাশাপাশি প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনবে ভারত।
এত বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা ভারত সরকার নিজে কেন করল না, সেই প্রশ্ন তুলছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
চুক্তির কোনো লিখিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আনেনি মোদি সরকার। অথচ ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত, ভারতের কৃষি ক্ষেত্র মার্কিন পণ্যের জন্য খুলে দেয়া হতে পারে। যার ফলে ভারতীয় কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দেশীয় শিল্প চরম চাপের মুখে পড়তে পারে। এমন কথাও বলছেন কংগ্রেস নেতারা। গত বছরের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির উদাহরণ টেনে তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতির মতো এবার বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণাও করলেন ট্রাম্প।
রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার দাবি নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। বিরোধীরা বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য যদি সত্যি হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে তেল কিনবে ভারত। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশীয় অর্থনীতিতে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারত। যেখানে ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যে শুল্ক কমানো বা তুলে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিরোধীরা এখানে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, একসঙ্গে দুই দিক খুলে দিলে ভারতের কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
কংগ্রেস নেতাদের দাবি, এই বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ শর্ত অবিলম্বে জনসমক্ষে আনতে হবে। সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে সরকারকে। তা নাহলে ভারতের কৃষক, শিল্প ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ আরও গভীর সংকটে পড়বে।