সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ১০:৩৫:০২

আমি একসময় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হবো, বাবাকে বলেছিলেন থালাপতি বিজয়

আমি একসময় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হবো, বাবাকে বলেছিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা রাখার আগেই নিজের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়। আমি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হবো- এভাবেই নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা একসময় বাবাকে জানিয়েছিলেন তিনি।

২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেন এই তারকা রাজনীতিক। প্রথমবারেই করলেন বাজিমাত। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, নিজের রাজনৈতিক অভিষেকেই শীর্ষ নম্বর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিজয়।

ভোট গণনা শুরুর আগে বাবা এসএ চন্দ্রশেখরকে সঙ্গে নিয়ে তিরুত্তানির সুব্রামণ্যস্বামী মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন বিজয়। কয়েক ঘণ্টা পর ফলাফল আসতে শুরু করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ সূচকেই নিজের রাজনৈতিক অভিষেকে উজ্জ্বল সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

ফলাফলের প্রবণতা সামনে আসার পর সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গর্বিত বাবার ভূমিকায় দেখা যায় এসএ চন্দ্রশেখরকে। তিনি বলেন, সবার আগে একজন বাবা হিসেবে আমি ভীষণ গর্বিত ও আনন্দিত। আমি আর আমার স্ত্রী দুজনই খুশি। গত দুই বছর ধরে তার আত্মবিশ্বাসের যে মাত্রা আমি দেখেছি, সেটাই আজকের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, টিভিকে প্রধান বিজয় তাকে একসময় বলেছিলেন, আমি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হবো। চন্দ্রশেখর বলেন, প্রচারণাজুড়েই তার ছেলের মধ্যে কোনো ধরনের আত্মসন্দেহ ছিল না। সে বলেছিল, আমি নিজের পায়ে দাঁড়াবো, কোনো জোট নয়।

এটা তামিলনাড়ু এবং তামিল মানুষের জন্য ভালো বিষয়। আমি মনে করি, এটি বিজয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য, ঐতিহাসিক জয়, বলেন এসএ চন্দ্রশেখর।

বিজয়ের বাবা আরও বলেন, ৩০ বছর ধরে আমার ছেলের মনে ছিল সমাজের জন্য, তামিল মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা। ধীরে ধীরে সেই ভাবনা পরিপক্ব হয়েছে। আজ সে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছে।

রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তার বাবা বলেন, তামিল মানুষ তাকে শুধু নেতা হিসেবে নয়, পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেও ভালোবাসে। প্রতিটি নারী তাকে নিজের ছেলে মনে করে। তরুণরা তাকে ভাই ভাবে। সবাই তাকে ‘আন্না’ বলে ডাকে, যার অর্থ ভাই। বয়স্ক নারীরা তাকে নিজের সন্তান মনে করেন, এমনকি ৬০ বছর বয়সী নারীরাও তাকে নাতি হিসেবে দেখেন। জনসাধারণের সঙ্গে তিনি এমন এক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৯টিতে এগিয়ে রয়েছে। আর ৭৪টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস ও ডিএমডিকের সঙ্গে জোটবদ্ধ ক্ষমতাসীন ডিএমকে। আর ৫২টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এআইএডিএমকে বা এডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট, যার শরিক মোদীর দল বিজেপি।

এদিকে, এই মুহূর্ত উদযাপনে পিছিয়ে ছিল না পরিবারের অন্য সদস্যরাও। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আনন্দে উচ্ছ্বসিত পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন, লাফাচ্ছেন, উল্লাস করছেন, কারও কারও চোখে আবার আনন্দের অশ্রুও দেখা গেছে।

বিজয়ের বাসভবনের বাইরে এ সময় সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত হন ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। খুব শিগগির দলীয় কর্মী ও ভক্তরা শুভেচ্ছা জানাতে সেখানে ভিড় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে