বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৭:১১:৪৮

খাবার না খেয়ে বর্ষাকে নিয়ে বনভোজন ত্যাগ করেন অনন্ত জলিল! কী ঘটনা ঘটেছিল?

খাবার না খেয়ে বর্ষাকে নিয়ে বনভোজন ত্যাগ করেন অনন্ত জলিল! কী ঘটনা ঘটেছিল?

বিনোদন ডেস্ক : গতকাল ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেঘবাড়ি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজন। সব শোবিজের তারকারা না আসলেও যাঁরা ছিলেন তাঁরাও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নানা কারণে। অভিযোগ ছিল, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাশতা নিয়ে। অনেক শিল্পী আবার বিরক্তি প্রকাশ করলেন অপরিচিত মানুষদের আনাগোনা ও তাঁদের সেলফি তোলা নিয়েও।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বনভোজনে বাড়তে থাকে শিল্পীর সংখ্যা। হাসান ইমাম, সোহেল রানা, সুচরিতা, অরুণা বিশ্বাস, ইলিয়াস কাঞ্চন, জাভেদ, রোজিনা, ডিপজল, কাবিলা ছাড়াও আসেন ফেরদৌস, পপি, অমিত হাসান, রেসি, অনন্ত, বর্ষাসহ আরো অনেকে। নতুনদের মধ্যে আসেন বাপ্পী, সাইমন, খোরশেদ আলম খসরু ও লিটন হাসমী। সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের উপস্থিতিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সবাইকে নিয়ে বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন করা হয়। নিরবদেরও দেখা যায় বনভোজনে অংশ নিতে। পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন সোহানুর রহমান সোহান, বদিউল আলম খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুসহ আরো অনেকে। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক।

দুপুর দেড়টায় শুরু হয় দুপুরের খাবারের পর্ব। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও অনেক বয়স্ক শিল্পীকে খেতে হয়েছে সাধারণ শিল্পীদের মধ্যে। খাবার পরিবেশন নিয়েও অভিযোগ করেছেন অনেকে। খাবারের তালিকায় ছিল পোলাও, এক টুকরো চিকেন ফ্রাই, দুই টুকরো গরুর মাংস, এক টুকরো মুরগির ঝালফ্রাই ও সালাদ। খুব হিসাব করে খাবার পরিবেশন করায় এ সময় অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। দ্বিতীয়বার খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়। এতে লজ্জায় অনেকেই আর দ্বিতীয়বার খাবার নিতে যাননি। এমন পরিবেশ দেখে নায়ক অনন্ত জলিল বলেন, ‘খাবারের পরিবেশ ঠিক নেই।’ এটা বলে খাবার না খেয়েই নায়িকা ও স্ত্রী বর্ষাকে নিয়ে চলে যান অনন্ত জলিল।

বনভোজনে লোকজন বেশি হওয়ায় খাবার নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পী। তা ছাড়া অপরিচিত মুখের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন সুচরিতা। তিনি বলেন, ‘এখানে এত মানুষ কেন, বুঝতে পারছি না। শিল্পী ছাড়াও এই বনভোজনে এফডিসির যে কেউ আসতে পারেন, সবাই আমরা পরিচিত। কিন্তু তারা তো আমাদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। বরং আমরাই এত দিন পর তাদের পেয়ে গ্রুপ ছবি তুলতে চাইব। অথচ সারা দিন এই দিকে, ওই দিকে তাকাতে তাকাতে ঘাড় ব্যথা হয়ে গেছে। এত অপরিচিত মানুষ কোথা থেকে এলো?’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পী বলেন, ‘এখন আর কেউ কাউকে সম্মান করতে চায় না। যাঁরা নিজেদের তারকা মনে করেন, তাঁরা বনভোজনগুলোতে আসতে চান না। নিজের সমিতিকে নিজের মনে করেন না।’

রাত পৌনে ১০টার দিকে আকাশে যখন তারা ঝলমল করছে, তখন কালীগঞ্জের রিসোর্টটি থেকে চলচ্চিত্রের তারকারা বিদায় জানিয়ে ফিরতে থাকেন নিজেদের ঠিকানায়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে