এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নেই বড় কোনো পরিবর্তন। ৪০-৬০ টাকার মধ্যেই মিলছে অধিকাংশ সবজি। প্রভাব পড়েনি মুরগির বাজারেও। তবে পবিত্র ঈদুল আজহার পর চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, গুলশান কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজিই ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, করলা, পটোল, লাউ, ফুলকপি ও কাঁকরোল। ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, ঢেঁড়স ৪০ টাকায়। তবে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা ও শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জোয়ার সাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাজেট বুঝি না। রাত ১২টার দিকে আড়তে চলে যাই। সেখান থেকে মালামাল নিয়ে আসি। সবকিছুর দামই আগের মতো। পরিবহন খরচও বাড়েনি। সবমিলিয়ে আগের মতোই জিনিসপত্র বিক্রি করছি।’
গুলশান কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, বাজেট হলেও কাঁচাবাজারে তেমন প্রভাব পড়ে না। কারণ মাছ ও সবজির দাম সবসময়ই ওঠানামা করে। তার দোকানে তেলাপিয়া মাছ ২২০ টাকা, কাতল ৩৫০-৩৬০ টাকা, রুই ৩৬০-৩৮০ টাকা ও পাঙাশ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
আরেক মাছ ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, আড়তে মাছ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়া ২২০ টাকা হলেও অন্যান্য মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সুমন হাওলাদার বলেন, ঈদুল আজহার পর গরু ও মুরগির মাংসের তুলনায় মাছের চাহিদা বেশি। রুইসহ বিভিন্ন ছোট মাছ কিনতে এসে তিনি জানান, কয়েকদিন আগেও রুই ৩২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন ৩৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। তবে সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
জোয়ার সাহারা বাজারে বাজার করতে আসা মেশকাত হোসেন বলেন, সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেতো। এবার এখনও তেমন কিছু চোখে পড়েনি। সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হলো। এমন থাকলে অন্তত সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন।
মুরগির বাজারেও বাজেটের কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতা শামসুল ইসলাম বলেন, আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ বাজেটের আগেও আমরা এ দামেই বিক্রি করেছি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত পাইকারি বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে খুচরা বাজারেও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়নি। তবে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।