শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪৯:৩৩

আজ হঠাৎ যত হলো ব্রয়লার মুরগির কেজি, ডিমের হালি যত

আজ হঠাৎ যত হলো ব্রয়লার মুরগির কেজি, ডিমের হালি যত

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। দাম বাড়লেও এখনও বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট কাটেনি। সেই সঙ্গে পুরনো দামের তেলই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারে।

এতে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে নতুন করে বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। তবে সবজি ও মসলার বাজার নিয়ে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে ক্রেতারা। কিন্তু ডাবল সেঞ্চুরি হাকাচ্ছে পোল্ট্রি মুরগিতে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলক্ষেত কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবু বাজার ও কাওরান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খিলক্ষেতের বাসিন্দা মো. রহিম তিনি বলেন, সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। কিন্তু আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের তো আয় বাড়েনি। এমনিতেই সংসারে সব সময় চাপ থাকে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু তেলের দাম আর কমে না।

শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫ টাকা বেশি, প্রতি লিটার ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আজ প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনো বেশ চড়া। বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে শিম। বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে।

সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ-মাংসের বাজারে সেই স্বস্তির ছাপ নেই।

রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও আগের মতই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা এবং হালি ৫০ টাকা দরে।

মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুযায়ী ১২০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুণতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে