শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:৩৪:৩১

গরুর সাহায্যে চলাফেরা করেন অন্ধ কাজেম আলী!

গরুর সাহায্যে চলাফেরা করেন অন্ধ কাজেম আলী!

মোসলেম উদ্দিন, দিনাজপুর : ৬০ বছর বয়সী কাজেম আলীর বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। ছোটবেলায় চোখে দেখতে পেলেও যুবক বয়সে হারান দৃষ্টিশক্তি। অনেক চিকিৎসার পরেও ফিরে পাননি চোখের আলো। তবে, দমে না গিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সিদ্ধান্ত নেন গরু পালনের। 

শুনেতে অবাক লাগলেও, পাঁচ বছর আগে পালন করতে আনা গরুই এখন কাজেম আলীর বন্ধু ও ভরসা। গরুর দেখানো পথ ধরেই হাঁটেন তিনি। এই প্রাণীকে খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, মাঠে নিয়ে চড়ানো থেকে সবকিছুই নিজের হাতে করেন কাজেম আলী। সুস্থ মানুষ যেখানে চলাফেরায় সমস্যায় পড়েন, সেখানে গরুর সাহায্যে কাজেম আলীর নির্ভুল চলাফেরা অবাক করে স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খোকার ছেলে কাজেম আলী অন্ধ হওয়ার পর জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে গরু পালনের সিদ্ধান্ত নেন। পাঁচ বছর আগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছোট একটি গরু আদি (লাভের বিনিময়ে লালন-পালন) নেন তিনি। পরম যত্নে পালন করতে শুরু করেন গরুটি। গোসল করানো থেকে শুরু করে খাবার খাওয়ানোর কাজ নিজ হাতে করতে থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় গরুটির পেছনে ব্যয় করেন। এভাবেই গরুটির সঙ্গে কাজেম আলীর গড়ে ওঠে অদ্ভুত এক সম্পর্ক। এ গরুই পথ দেখিয়ে কাজেম আলীকে মাঠে নিয়ে যায় ও বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। 

গ্রামবাসী আজিজার রহমান বলেন, “চোখ থাকলেও আমরা অনেক সময় ভুল করি। তবে, কাজেম আলী গরুর সহায়তায় এতটা নির্ভুলভাবে চলাফেরা করেন যে, আমরা অবাক হই। সমাজের সামর্থবান ব্যক্তিরা যদি তাকে একটি গরু কিনে দেন, তবে তার সংসার অনেকটাই স্বচ্ছল হবে।”

এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, “অন্ধ হয়েও কারো কাছে হাত না পেতে কাজ করে খাচ্ছেন কাজেম আলী। আমরা সবাই যদি সামান্য সহযোগিতা করি, তাহলে তার জীবনে অনেক পরিবর্তন আসবে।”

গ্রামবাসী শফিকুর ইসলাম বলেন, “অন্ধ হলেও পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা কাজেম আলী সমাজের জন্য অনন্য উদাহরণ। নিজের শক্তি আর দৃঢ় মনোবল নিয়েই তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতিদিন। সামর্থবান ব্যক্তিরা কাজেম আলীর  পাশে  দাঁড়ালে তার সংগ্রামী জীবন আরো সহজ হবে।”

কাজেম আলী বলেন, “আমি কারো কাছে হাত পাততে চাই না। আমার গরুই আমার সহায়। ওই আমাকে মাঠে নিয়ে যায়, আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। আমি গরুকে খাওয়াই, গোসল করাই, নিজের সন্তানের মতোই তাকে দেখি। গরুটি অন্যের, যদি নিজের একটি গরু থাকত, তাহলে জীবন কিছুটা হলেও সুখে কাটত।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, “কাজেম আলীকে ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সমাজসেবার অধীনে থাকা অন্যান্য সুবিধাও পর্যায়ক্রমে তাকে দেওয়া হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা চাই, কাজেম আলীর মতো সংগ্রামী মানুষ যেন আরো ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। সমাজসেবার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করা হবে।”-রাইজিংবিডি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে