মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬:৫২

জানেন সিভিতে কোন বিষয়গুলো পরিহার করা জরুরি

জানেন সিভিতে কোন বিষয়গুলো পরিহার করা জরুরি

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : চাকরিতে প্রবেশ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিভি। আপনার সিভির মান দেখেই মূলত আপনার প্রতি ধারণা তৈরি হয় নিয়োগকর্তার। তাই সিভিতে কোনো প্রকার ভুল থাকা মানে নিয়োগকর্তার কাছে আপনার ইমপ্রেশন খারাপ হওয়া।

শুধু ভুলই নয়, কারোর সিভি থেকে যায় অস্পূর্ণ, আবার কারোর সিভিতে থাকে অপ্রয়োজনীয় তথ্য। এটি নিয়োগকর্তাকে আপনার প্রতি বিরক্তি এনে দিতে পারে। তাই চাকরি পাওয়ার দিক থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে চাইলে চলুন জেনে নিই সিভিতে কোন বিষয়গুলো পরিহার করা জরুরি— 

১. ব্যাকরণগত ভুল না করা: সিভির মূল সৌন্দর্যই হলো সিভিটি হবে পরিশুদ্ধ ব্যাকরণ মেনে ও শুদ্ধ বানানের। আপনি যদি এই জায়গাতে ভুল করেন তাহলে আপনার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে। কারণ, বানানের মতো ন্যূনতম বিষয়গুলোর মাধ্যমে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটে। 

২. দীর্ঘ প্যারাগ্রাফ দিয়ে শুরু না করা: আপনি যদি সিভির শুরুতেই বড় প্যারা করে আপনার সম্পর্কে তথ্য দেন, তবে নিয়োগকর্তার শুরুতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। প্যারাগ্রাফ হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত, সুচিন্তিত ও আগ্রহ উদ্দীপক।

৩. অপ্রসঙ্গিক কথাবার্তা:  সিভিতে শুধুমাত্র সেই পারদর্শিতাগুলোকেই অন্তর্ভূক্ত করা উচিৎ, যেগুলো উদ্দিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্কুল-কলেজ জীবনের এমন অনেক অর্জন রয়েছে, যেগুলো কোনো ভাবেই উল্লিখিত পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। যারা জীবনের প্রথম চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন তাদেরও এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। অসামঞ্জস্য তথ্য দিয়ে দুই পৃষ্ঠার সিভি অপেক্ষা প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত তথ্যে ভরপুর এক পৃষ্ঠার রেজুমিই উত্তম।

৪. অত্যধিক ব্যক্তিগত তথ্য: চাকরির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলে, পিতামাতার নাম, ধর্মীয় বিশ্বাস, বৈবাহিক অবস্থা, এবং গ্রামের বাড়ির ঠিকানা না দেওয়াই ভালো। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই হলে স্থানীয় চাকরির ক্ষেত্রে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া সরকারি চাকরির সময় ঠিকানার বিস্তারিত দেওয়াটা আবশ্যক।

ব্যক্তিগত শখ ও আগ্রহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক হয় না। সিভির জায়গা ও নিয়োগকর্তার সময় সংকুলান বিচারে এগুলোর বদলে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিভাগগুলোতে জোর দেওয়া উচিৎ। তবে চাকরির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে দেওয়া যেতে পারে। 

৫. অনুপোযুক্ত ইমেইল ঠিকানা: জীবনের প্রথম চাকরির আবেদনের সময় অনেকেই এই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অপেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। একটি উপযুক্ত ইমেইল ঠিকানায় সংখ্যা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বা অপেশাদার অর্থবোধক শব্দ থাকা উচিৎ নয়। কারিগরি দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ হলেও ইমেইল ঠিকানাটি সিভিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার যোগ্যতা হারায়।

সিভি তৈরির সময় এই বিষয়গুলো পরিহার করে তথ্য প্রদানে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। বহুল ব্যবহৃত বা পুরনো ফর্মেটের বদলে যুগোপযোগী ফর্মেটগুলো নিয়োগকর্তাদের বেশি পছন্দের। সূচনা ভালো হলে নিয়োগকর্তা পুরো সিভিটা পড়ে দেখার আগ্রহ পাবে।  

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে