মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ০৬:২৬:২৩

‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : গাজীপুরের টঙ্গীতে পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের এক নেতার কাছে চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম রাতুল শিকদার অমি। তিনি গাজীপুর মহানগরীর ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মিরন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

 তিনি জানান, সোমবার (১৫ জুন) ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদারের চাঁদাবাজির একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে সুস্পষ্টভাবে চাঁদা চেয়ে একজনকে হুমকি দিতে শোনা যায়। পরে এই ঘটনায় ওইদিন রাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়।

 মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেডিং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে রাতুলসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, গাজীপুর সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক ফেডারেশন অফিসে বিভিন্ন সময় তারা চাঁদা নিতে আসতেন। একপর্যায়ে ওই অফিস অন্যত্র সরিয়ে নিলে সেখানে গিয়েও তারা চাঁদা আদায় করতেন।

প্রত্যাশামতো চাঁদা না দেয়ায় কয়েক মাস আগে শ্রমিক নেতা মাজহারুলকে আটকে রেখে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ৬৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেয়া হয়। এ ঘটনার পর প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা নিতেন ছাত্রদল নেতা রাতুল। আর চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলেই দেয়া হতো হুমকি। এমনই একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে সোমবার।

ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে রাতুল শিকদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচশ টাকা। আজকা ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা। সাড়ে পাঁচটার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই বা ব্যাকও করলেন না। আমারে বুঝান ফোন ধরেন নাই কেন। আপনার এত বড় ক্ষমতা, ফোন ধরেন দেহি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফোন ধরেন না, আবার আরেকজনের নাম ভাঙান মিয়া। এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইব না। বুঝেন নাই, এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না, বুঝেন নাই। এইডা সবই আমার জানা আছে, ফাঁপরে কাম কাজে নাই, আমি ফাঁপরে ডরাই না। আপনি পাপ্পু সরকার, সুমন লস্কর আর কেডা কেডা আছে লইয়া বসেন এবং কন আমি আইতাছি।’

এ বিষয়ে জানতে রাতুল শিকদারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, ছাত্রদল নেতা রাতুলের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে