মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৯:০৬

‘এ’ গ্রেড পেলেন হঠাৎ করেই মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়া কাবির

‘এ’ গ্রেড পেলেন হঠাৎ করেই মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়া কাবির

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় হঠাৎ করেই মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান জিপিএ ৪.৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

জন্মের সময় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিতে কেয়া আক্তার নামে পরিচিত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান নামে পরিচিত। সে নতুন পরিচয়ে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন গড়ার প্রত্যাশী।

তার  এই শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনা এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় উৎসুক জনতা এখনও তার বাড়িতে ভিড় করছে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) তার এসএসসির ফলাফল দেওয়ার পর দূরদূরান্ত থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করছে বাড়িতে। পরিবারের লোকজন তাদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। গণমাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওই বাড়িতে সারা দিন আনাগোনা করছেন। বাড়ির গেট বন্ধ করেও লোকজন থামানো যাচ্ছে না। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার বেলতলা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ান ও কণিকা ইসলামের সন্তান কেয়া আক্তার। বর্তমানে পরিবারসহ তারা কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক কামরাঙ্গীচালা এলাকায় শহীদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। কেয়া আক্তার নামে নিবন্ধিত ওই শিক্ষার্থী ওই এলাকার ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, সে জিপিএ ৪.৫৬ (এ গ্রেড) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে তার নাম রাখা হয়েছে কাবির দেওয়ান।

মা কণিকা ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে তার শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি পরিবারের বাইরে কাউকে জানানো হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা কণ্ঠস্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে ও আশপাশের মানুষ বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে বিষয়টি সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হন।  

কাবির দেওয়ান বলেন, আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, কত কয়েক দিন আগে আমার ওই শিক্ষার্থী মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পারি। তবে সে এতদিন কেয়া নামেই এখানে পড়াশোনা করেছে। এখন তার নাম রাখা হয়েছে কবির দেওয়ান। সে এবার (এ গ্রেডে) উত্তীর্ণ হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও পরিবারের সদস্যরা কাবির দেওয়ানের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে