শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:৩০:২০

বাঁচানো গেল না মাথায় গুলি লাগা জুলাই যোদ্ধা হৃদয়কে

বাঁচানো গেল না মাথায় গুলি লাগা জুলাই যোদ্ধা হৃদয়কে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (১৭) মারা গেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত হৃদয় উপজেলার পশ্চিম যৌতা গ্রামের রিকশাচালক আনসার হাওলাদারের ছেলে।

হৃদয়ের পরিবার জানায়, শ্রমিকের কাজ করতে ঢাকা গিয়েছিলেন হৃদয়। ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার রাজপথে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। মাথায় তিনটি গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়।

পরিবারের দাবি, তৎকালীন ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের’ ভয়ে হৃদয়কে লুকিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার মাথা থেকে দুটি গুলি অপসারণ করতে পারলেও, একটি গুলি থেকে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপসারণ না হওয়া গুলিটি থেকেই হৃদয়ের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা, জ্বর ও অস্থিরতা দেখা দিত। গত বুধবার আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকেল তিনটার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, ‘ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। নিজের রিকশা আর একটা গরু বিক্রি করে যতটুকু পেরেছি করেছি। মাথার তিনটা গুলির মধ্যে দুইটা ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা বের করেছেন। কিন্তু আরেকটা গুলি মাথার ভেতরই থেকে গেছে। বিদেশে চিকিৎসা করাতে পারলে আমার ছেলে বেঁচে যেত।’

হৃদয়ের বড় ভাই মো. সোহাগ ইসলাম আনিস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হৃদয় অসুস্থ ছিল। মাথার ভেতরে থাকা গুলিটা প্রচণ্ড ব্যথা দিত, জ্বর উঠত। কেউ ওর উন্নত চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি। চিকিৎসার অভাবেই আমার ভাই মারা গেছে।’

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. রউফ বলেন, ‘হৃদয়কে বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলা হয়। কিন্তু সময়মতো সেখানে নিতে পারেনি পরিবার। বিকেল তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে