এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ঈদের ছুটিতে নীলফামারী জেলার জনবহুল শহর সৈয়দপুরে বিয়ের ধুম পড়েছে। ঈদে আত্মীয়স্বজনকে একসাথে পাওয়ার সুযোগে গত ৫ দিনে শুধু এ উপজেলায় দুই শতাধিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সাথে প্রতিদিন একাধিক বিয়ের আয়োজনে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্টজন।
সৈয়দপুর শহরের কমিউনিটি সেন্টার, বিয়ে নিবন্ধনকারী, বিউটি পার্লার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের আগে পবিত্র রমজান থাকায় মুসলিম পরিবারে বিয়ে তেমন একটা হয়নি। কিন্তু ঈদের পরের দিন থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবছরে এই ঈদে আত্মীয়স্বজন ও চাকরিজীবীরা এলাকায় অবস্থান করায় অনেকে বিয়ের জন্য এ সময়টিকে বেছে নেন। এ দিকে একসাথে অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বিউটি পার্লার।
সৈয়দপুর শহরের দারুল উলুম মোড়ে রুপ এডিশন বিউটি পার্লারের মালিক কোহিনুর লিপি বলেন, আমাদের একদিনে তিন-চারটির অধিক বউ সাজাতে হচ্ছে। এছাড়া ছেলেদের মধ্যে শহরের বাইরে যাদের বিয়ে হচ্ছে সেই বিয়ের মহিলা বরযাত্রীরা মেকআপ করছেন।
সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাবুল হোসেন বলেন, মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে তিনদিন ঘুরেও ডেকোরেটর সামগ্রী ভাড়া পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে নিজেই কম দামে কাপড় কিনে কোন রকমে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করেছি।
সৈয়দপুর শহরের কার চালক বাঁধন মিয়া বলেন, আগামী ৪দিন পর্যন্ত বিয়ের ভাড়া রিজার্ভ করা রয়েছে। বেশির ভাগ শহরের মধ্যে বিয়ের ভাড়া রয়েছে। একই দিনে ৩-৪টি বিয়ের আগাম ভাড়াও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবার রংপুরের পাগলাপীরে একটি বিয়ের ভাড়া ৭ হাজার টাকা ভাড়া পেয়েছি। আগে ৩ হাজার টাকায় ভাড়ায় যাওয়া হতো। তিনি বলেন, ঈদের এ সময়ে বিনোদন কেন্দ্রের ভাড়ার চাহিদার জন্য বিয়ের ভাড়া বেশি নিতে হচ্ছে।
ড্রিমপ্লাস হোটেল এন্ড রিসোর্টের সত্ত্বাধিকারী তৌহিদার রহমান জানান, আগামী ১০ দিন পর্যন্ত বুকিং রয়েছে শুধুমাত্র বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য। এখানে দিনে ও রাতে আলাদাভাবে বুকিং দেওয়া হয়। অনেকে দিনে-রাতে মিলে বুকিং নিয়েছে। এ রেস্টুরেন্টে বিয়ের জন্য বাবুর্চি ও হল রুম সহ প্রায় ৫শত লোকের একসাথে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
সৈয়দপুর শহরের বিয়ে নিবন্ধনকারী (কাজী) সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকরা এখন সরকারি ছুটিতে ছেলেমেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেয়। গত ক’দিনে ১০টি বিয়ে নিবন্ধন করেছেন বলে জানান তিনি। তবে বরপক্ষের অনেকেই শহরের বাইরে বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সে রেজিস্টার তাদের কাছে থাকছে না। পৌর এলাকায় ৬ জন নিকাহ রেজিস্ট্রারের বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার রয়েছেন। সব মিলিয়ে উপজেলায় ঈদের পর দুই শতাধিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
( ৫ এপ্রিল) শনিবার সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার জানান, ঈদের পর দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিনি ১৪টির বেশি বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান থাকায় দাওয়াত রক্ষা করাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য হলেও উপস্থিত থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।