সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:১২:৫২

আয়নাঘরে দিন গুনতাম খাবার দেখে: হুম্মাম

আয়নাঘরে দিন গুনতাম খাবার দেখে: হুম্মাম

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে গুম ও এরপরের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আয়নাঘরে থাকা অবস্থায় আমি দিন গুনতাম খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আসলে বুঝতে পারতাম নতুন দিনের শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতে ভাত, ১ পিস মাছ অথবা মুরগি দেওয়া হতো, সঙ্গে সবজি। এভাবে দিন গুনে একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে হিসাব রাখতাম, দুই মাস পর আমি হিসাব রাখা বন্ধ করে দেই। 

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সিএমএম কোর্টে গাড়িযোগে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলাম। বংশাল থানার সামনে গোল চত্বরে ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়ালে আমার গাড়িটি ৭-৮ জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি গাড়ি ঘেরাও করে। আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ও ওয়ালেট মার কাছে দিয়ে তাকে বিদায় জানিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ি। পরে আমাকে বংশাল থানায় এবং পরবর্তীতে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

হুমাম কাদের আরও বলেন, ডিবি কার্যালয় থেকে রাত ১১টার পরে একটি ভাঙা মাইক্রোবাসে করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, মাইক্রোবাসে ড্রাইভারের সঙ্গে একজন, আমার দুপাশে দুইজন ও পেছনে একজন বসা ছিল। 

এ সময় সামনে বসা লোকটি কান্না করছিল। তিনি আমার কাছে ক্ষমা চান। আমি বুঝতে পারি যে আমাকে এখন ক্রসফায়ার দেওয়া হবে। কিছুক্ষণ পরে আমাকে ব্লাইন্ডফোল্ড করতে বলা হয়। পরে মহাখালী ফ্লাইওভার দিয়ে এয়ারপোর্টের রাস্তা দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। 

আমি চোখ বাঁধা অবস্থায় থাকলেও রাস্তায় জিগজাক করে কোণ রাখায় বুঝতে পারি এটি এয়ারপোর্টের রাস্তা। সেখানে কোনো এক কাচা রাস্তায় নিয়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা আমাকে ব্লাইন্ড ফোল্ডের উপর যমটুপি পড়িয়ে ও হাতকড়া লাগিয়ে আয়নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে ৭ মাস গুম করে রাখা হয়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে