এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বয়স মাত্র ১১। চোখে মুখে শিশুসুলভ চপলতা। শৈশবের দুরন্তপনা আর চাঞ্চল্যতা, কিন্তু বুকের ভেতর তাদের এক বিশাল সাগর-মহাগ্রন্থ আল কুরআন। কোনো ভুল ছাড়াই, এক বৈঠকে পুরো ৩০ পারা কুরআন শুনিয়ে দেশজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে এই দুই শিশু।
এরা হলেন লাবিব আব্দুল্লাহ ও উসাইদ মুহিব্বুল্লাহ। দুজনেরই বয়স ১১ বছর। লাবিব আব্দুল্লাহ, বাড়ি নরসিংদী। সাধারণ শিক্ষার ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এই বিস্ময় বালক হিফজ শুনানি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজধানী ঢাকার ডেমরাস্থ ডগাইরে অবস্থিত মাদরাসাতু আহমাদের।
অন্যদিকে উসাইদ মুহিব্বুল্লাহ, যার বাবা কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম। বাড়ি চাঁদপুর। ৫ম শ্রেণির ছাত্র উসাইদও একই বিভাগের গর্ব। দুজনেই ছাত্রগড়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মাদরাসাতু আহমাদ’-এর রত্ন।
এক বৈঠকে পুরো কুরআন ভুলহীনভাবে শোনানোর এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের দিয়েছে রাজকীয় সংবর্ধনা। পুরস্কার হিসেবে মাদরাসার পরিচালকের পক্ষ থেকে তারা পেয়েছে ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান ভ্রমণ।
আকাশের বুকে উড়ার সময়ও তারা ছড়িয়েছে মুগ্ধতা। বিমানের পাইলট থেকে শুরু করে কেবিন ক্রু-সবাই এই খুদে হাফেজদের কৃতিত্বে অভিভূত হয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। বর্তমানে তারা কক্সবাজারের নীল জলরাশির সান্নিধ্যে অবস্থান করছেন।
লাবিব ও উসাইদ যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সেই ‘মাদরাসাতু আহমাদ’ কেবল হাফেজ তৈরির কারখানা নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে প্লে থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলিং এবং কিতাবখানা বিভাগের পাশাপাশি রয়েছে সায়েন্স বিভাগ, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
রয়েছে কম্পিউটার বিভাগ, যেখানে শেখানো হয় ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন। প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে স্পোকেন ইংলিশ এবং কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে আগামীর যোগ্য নাগরিক।
মাদরাসার পরিচালক, যুবায়ের আহমাদ সময় সংবাদকে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের এই দুই ছাত্র লাবিব ও উসাইদ এক বৈঠকে ভুলহীন কুরআন শুনিয়ে প্রমাণ করেছে যে মেধা ও পরিশ্রম থাকলে সবই সম্ভব। আমরা চেয়েছি তাদের এই অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে, যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়। তাই তাদের এই বিমান ভ্রমণ ও কক্সবাজার ট্যুরের ব্যবস্থা। আমরা চাই আমাদের ছাত্ররা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষায়ও সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাক।
কুরআনের আলো বুকে নিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে লাবিব ও উসাইদরা এগিয়ে যাবে বহুদূর। তাদের এই অসাধারণ সফর সাফল্যের এক বিশাল মহাসাগরের দিকে নিয়ে যাবে, এই কামনেই করেন দেশবাসী।