এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মিথ্যাচার করছেএক্স আইডি হ্যাক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। সোমবার (৩ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই অভিযোগ করেন।
নাছির লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার পাপে কলঙ্কিত, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও আজও অনুতপ্ত নয়। ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা; বরং সময়ের স্রোত উল্টো ঘোরাতে তারা আবারও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টায় নেমেছে।’ইসলামি বই
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর দাবি করেছেন, “১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং উই রিভোল্ট প্রথম বলেছিলেন কর্নেল অলি আহমেদ।” এই বক্তব্য কেবল অসত্য নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বলা এক নির্মম ও ন্যাক্কারজনক প্রহসন।
কারণ ইতিহাস এক ও অভিন্ন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
নাছির লেখেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যখন ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেন। বিদ্রোহের সূচনায় তিনি উচ্চারণ করেন ঐতিহাসিক শব্দ—“We revolt।” এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। দেশের বেতারে ভেসে আসে সেই অবিস্মরণীয় কণ্ঠ- “আমি মেজর জিয়া বলছি।” ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি নিজেকে ‘অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির কমান্ডার-ইন-চিফ’ ঘোষণা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। খোদ কর্নেল অলি আহমেদ নিজেও বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।
তিনি আরও লেখেন, তাই জামায়াতে ইসলামীর আমীরের এ ধরনের নির্লজ্জ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ইতিহাসবিধ্বংসী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণাভরে প্রতিবাদ জানাই। কয়েকদিন আগেও নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেছিলেন তাঁর আইডি হ্যাক হয়েছে। বাস্তবে আইডি হ্যাক হয়নি-হ্যাক হয়েছে তাঁর মাথা। তাছাড়া ইতিহাস নিয়ে তিনি এমন জঘন্য মিথ্যাচার করতে পারেন না।’
নাছির লেখেন, ইতিহাস বিকৃত করে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জামাতের আমির আজও প্রমাণ করেছেন জামায়াতের রাজনীতি শুরু হয়েছিল মুনাফেকি দিয়ে, আর আজও তা চলছে সেই একই মুনাফেকির ধারাবাহিকতায়।