এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি নতুন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার আলাদা দুটি জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, নারীর মর্যাদা এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের জোটে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ বা ঋণখেলাপি নেই। তাঁরা বেছে বেছে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন।
তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তার ভাষায়, আমরা সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয়, বরং একটি উত্তম বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক গর্বভরে বলবে, আমিই বাংলাদেশ।
একই দিন দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অন্য এক জনসভায় তিনি বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এমন এক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে যেখানে দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলে সাধারণ মানুষের মতোই সমান শাস্তির আওতায় আসবেন। ‘রাজার জন্য যে বিচার, সবার জন্য সেই বিচার’ এই নীতিতে দেশ পরিচালিত হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা নয়, বরং কর্মসংস্থান চায়। তিনি যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন এবং দেশ পরিচালনার মূল নেতৃত্বে তাদের নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখান। নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মা-বোনেরা ঘরে এবং কর্মস্থলে যাতে পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান, তা নিশ্চিত করা হবে। এমনকি কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক শিল্প স্থাপন এবং পদ্মা ও মহানন্দা নদীকে জীবন্ত করে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, যেখানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশ তার পানির ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে, ঠিক সেখানেই বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ভোটারদের ১২ তারিখের নির্বাচনে দুটি ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রথম ভোট হবে আজাদির পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং দ্বিতীয় ভোট হবে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায়। জনসভা শেষে তিনি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং তাদের বিজয়ী করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা প্রদান করেন।