বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৭:১১

বেতনসংক্রান্ত জটিলতা ও বিভাগ পরিবর্তনের জেরে শিক্ষকের গলা কাটলেন কর্মচারী

বেতনসংক্রান্ত জটিলতা ও বিভাগ পরিবর্তনের জেরে শিক্ষকের গলা কাটলেন কর্মচারী

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের স্বাক্ষী হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। আজ (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে যে, বেতনসংক্রান্ত জটিলতা ও বিভাগ পরিবর্তনের জেরে ফজলু নামের এক কর্মচারী তার গলায় ছুরি চালিয়েছেন। তবে এই ঘটনার পরপরই হামলাকারী কর্মচারী নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এদিকে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে উভয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মচারী বেতন পাচ্ছিলেন না। এটি নিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পরে সম্প্রতি ফজলুকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই এ কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারেননি। উনি প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী, উনি এখান থেকে চলে যাবেন, উনি সব কিছুই জানেন এই বিভাগের।

তিনি বলেন, ওনাকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে বদলি করা হয়। আর উনি এখন এমন সাংঘাতিক একটা ডিসিশন নেবে আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। ডিপার্টমেন্টে হাবিব স্যার ছিলেন। উনি ৩০ মিনিট আগে ডরমেটরিতে চলে যান। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে