শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৫:৫০

'বিপদ ধেয়ে আসছে জামায়াতের দিকে'

'বিপদ ধেয়ে আসছে জামায়াতের দিকে'

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সামনের দিনগুলোতে বিপাকে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতের সামনের দিনগুলো ভীষণ রকম দুর্বিসহ ও বিপজ্জনক। দলটি বিভিন্নভাবে বিপত্তিতে পড়তে পারে। অসংখ্য বিপদ জামায়াতের দিকে ধেয়ে আসছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘গত ১৭ মাস জামায়াত বাংলাদেশে যে দাপট দেখিয়েছে সেই জায়গা থেকে পিছিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার জমানার শেষ ছয়টি মাস জামায়াত তাদের টিম এ, বি, সি, ডি টিম সি টিম দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে। তারা একটা সময় গর্ব করত।

তারা গত ১৭ মাস বলত এই বিপ্লব করেছে তারা, বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। বিপ্লব-পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তারা শতভাগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে এ রকম একটি বিশ্বাস ছিল। এ রকম একটি দফারফা তাদের হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষ থেকে তারা আশ্বাস পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে যদি নির্ভার কেউ থেকে থাকে, সেটা জামায়াতের মধ্যে ছিল। তাদের ভুল হয়েছে, ভ্রান্তি হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাড়াবাড়ি হয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু এই গত ১৭ মাসে তাদের দুশ্চিন্তা ছিল না। বরং সুন্দর একটা স্বপ্ন ছিল।

তারা এ দেশটিকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র করবে নাকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র করবে? নাকি তারা ডেমোক্রেটিক যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যেভাবে চলছে, সেভাবে চলবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। তাদের ভাবসাবের মধ্যে একটা রয়ালিটি-রাজসিকতা চলে এসেছিল—সব মানুষ তাদের কাছে যেত বড় বড় ব্যবসায়ী ধর্ণা ধরত টাকার বস্তা নিয়ে, চাঁদার বস্তা নিয়ে হেলিকপ্টার নিয়ে তাদের পিছে পিছে ঘুরত। যে মানুষ ঢাকা শহরে গাড়িতে চলতে পারত না, জামায়াতের লোক সে মানুষ হেলিকপ্টার করে ঘোরাফেরা করা শুরু করল। 

জামায়াত নেতাদের বাসায় নতুন, নতুন ফার্নিচার এলো। ফার্নিচার এখন জামায়াতের অফিসগুলোতে জামায়াতের অনেক নেতাদের বাসায় শোভা পাচ্ছে। আর সেসব ফার্নিচারের ওপর বসে পায়ের ওপর পা তুলে তারা বিভিন্ন ছবক দিয়েছে গত ১৭ মাস তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। কখনো তাদের বাসায়, কখনো তাদের অফিসে কিংবা কখনো অন্য বিভিন্ন জায়গাতে তারা মানে রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎকার দিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সাক্ষাৎকার দিয়েছে এবং তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ-হোটেলে, তারপরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র এখানে তারা বহু অনুষ্ঠান করেছে; বিরাট রকম ভুঁড়িভোজ খানাপিনা, পোলাও-কোরমা, রোস্ট-কালিয়া কোপতা থেকে মানে এজটিস যে এ দেখে কী বলব মনে হয় যেন বাদশা হারুনুর রশিদ সে শাহি ভোজ দিচ্ছে— এ রকম তাদের আয়োজন ছিল। তারা সরকারকে ভয় দেখানোর জন্য বা সরকারকে চমক দেওয়ার জন্য বিএনপিকে থ্রেডে রাখার জন্য একটার পর একটা রাজকীয় অনুষ্ঠান তারা করেছে—সমাবেশ করেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতে, জেলা শহরে সদর উদ্যানে। মানে এসব দেখে মনে হয়েছে যে জামায়াতের টাকায় তিলা পড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ মনে করেছিল জামায়াতের অনেক টাকা রয়েছে। দীর্ঘদিন তারা সেই টাকা বাক্সবন্দি করে রেখেছিল। এ কারণে তাদের সেই টাকায় অনেক সময় তিলা পড়ে যায় (দাগ পড়ে যায়)। তো মানুষ তাদের ভেবে বসল যে ওরা হলো অনেক পুরনো ধনী। ওদের টাকায় তিলা পড়ে গেছে। তো জামায়াত এমনভাবে টাকাপয়সা খরচ করছিল। তারা এমনভাবে চালচলন করছিল দেখে মনে হচ্ছিল যে তাদের টাকায় তিলা পড়ে গেছে। অর্থবৃত্তির একটা পর্যায়ে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে আসার পর জামায়াতের রাজনীতি ঘুরে যায় উল্লেখ করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে এলেন অমনি জামায়াতের বেলুন ফুস করে ফেটে গেল। 

কেউ কেউ বললেন, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ লোকজনকে আর কেউ পাত্তা দিতে চায় না। তারপর তারেক রহমানের ভূমিধস বিজয়। তারপর সরকার গঠন এবং সরকার গঠনের পর একটার পর একটা চমক। এ ক্ষেত্রে তারেক রহমানের চাহিদা তা তো দ্বিগুণ হয়ে গেল। একে তো বাঙালি জাতীয়তাবাদ; তার ওপর শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদ, বেগম জিয়ার জাতীয়তাবাদ, তারেক রহমান সাহেবের নিজের যে ৩১ দফা সব মিলিয়ে যদি আবার জামায়াতের যে ইসলামাইজেশন তার সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তো জয়নাল আবদিন ফারুক যেটা বলেছেন যে ২০৪২ সাল পর্যন্ত তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন। 

মানে ১৬ বছর ক্ষমতায় বাইরে থাকবেন শফিকুর রহমান। তার বয়স এখন ৭২ বছর বা ৭৩ বছর। তো সেই অর্থে যদি আরো ১৬ বছর তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকেন তাহলে তো তার বয়স ৯১-৯২ বছর হয়ে যাবে। ওই বয়সে তার কি দাঁত থাকবে? শক্তি থাকবে, সামর্থ্য থাকবে? মাথার চুল তো এমনি এখন আর নাই। তখন কী অবস্থায় থাকে? তিনি কি শয্যাগত থাকবেন? না সবল-সচল থাকবে না। তার জায়গায় মিয়া গোলাম পরওয়ার আমির হবেন নাকি অন্য কেউ আমির হবেন? এ বিষয়গুলো নিয়ে যখন জামায়াতের মধ্যে চিন্তাভাবনা হয় না তাদের অনেক টেনশন হয়। তাদের অনেক কষ্ট হয়।’

তিনি বলেন, ‘আপনি দেখবেন ইদানীংকালে তাদের অনেকের চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকে আগে পাঞ্জাবি পরতেন, পাজামা পরতেন—এ অবস্থায় তারা যখন বাইরে আসতেন, ফুরফুরে ফুরফুরে একটা ভাব থাকত। শরীর থেকে তরতাজা আতরের গন্ধ আসত। মাথার যে টুপি সে টুপির একটা স্রোত ছিল। দাড়ির একটা জিল্লতি ছিল। 

তো সেই জিনিসগুলো এখন আর নাই। এখন অনেকের চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের রাগ হয়ে যাচ্ছে। কথায় কথায় তারা চোখ গোল করছে। এই যেই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেই সিনড্রোমগুলো দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে শহীদ। তারা যাকে শহীদ উসমান হাদি বলেন তো সেই ওসমান হাদির যারা হত্যাকারী তারা ভারতে ধরা পড়েছে—এখন সে হত্যাকারীরা যদি জামায়াতের নাম বলে দেয়।’

 তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ওপর কিন্তু বিপদ ধেয়ে আসবে। একটার পর একটা বিপদ ধেয়ে আসবে। আর এই মুহূর্তে জামায়াতের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে গেছে যে জামায়াতকে কেউ বিশ্বাস করছে না। তাদেরক সবাই একটি মোফেকের দল বলার চেষ্টা করছে।’ তাদের বলছে যে এই দলে কোনো ইনসাফ নেই। এরা মানুষের টাকা মেরে দেয়। 

এরা মানুষকে কথা দিয়ে কথা রাখে না। এরা যখন কাউকে প্রয়োজন অমনি তার হাতে-পায় ধরবে। আর যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে অমনি তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে দেবে। এই হলো জামায়াতি চরিত্র। সেই চরিত্র সেই মোনাফিকের চরিত্র যে কতটা নির্মম এবং নিষ্ঠুর তার কিছু নমুনা আপনি পাবেন পীরে চরমোনাই। 

মানে চরমোনাই পীর সাহেবের যিনি ছোট পীর তার কিছু বক্তব্য। খুব খোলামেলা তিনি সে বক্তব্য দিয়ে দিয়েছেন মাওলানা ফয়জুল করীম সাহেব। এরপর হেফাজতের যিনি বর্তমান আমির রয়েছেন তিনিও জামায়াত সম্পর্কে খুব বাজে কথা বলে যাচ্ছেন বলছেন। ইতিমধ্যে তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে সেই জামায়াতের মানে হেফাজতে ইসলামের আমিরের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি তাকে দোয়া করেছেন। 

বয়োবৃদ্ধ মানুষ এবং হেফাজতের ভোটের একটা বিরাট অংশ বিএনপি পেয়েছে। অথচ এই ভোটগুলো জামায়াতের পাওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের বিপদ কী পরিমাণ বাড়বে এবং কোন অবস্থায় যাবে সে ক্ষেত্রে ইল্লু পিঙ্কুর মতো যারা লোকজন আছেন, যারা জামায়াতের প্রমোটার তারা কি আসলে জামায়াতকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারবেন নাকি পারবেন না, সেটি এখন দেখার বিষয়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে