বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৪১:৪৬

লাগাম টানা যাচ্ছে না রাজধানীর মুরগির বাজারের

লাগাম টানা যাচ্ছে না রাজধানীর মুরগির বাজারের

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : লাগাম টানা যাচ্ছে না মুরগির বাজারের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি জাতের মুরগির কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ১০ টাকা। ডিমের ডজনেও বেড়েছে ১০ টাকা। এ ছাড়া বিক্রি বেড়েছে সেমাই-চিনির দোকানে। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার ও তেজকুনিপাড়া ঘুরে বাজারের এ চিত্র দেখা গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে মুরগির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে খামার ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। সে কারণে খুচরা বাজারেও দাম বাড়তি। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি কিংবা খুচরা ব্যবসায়ী সবাই প্রতিবছর ঈদের আগে একযোগে দাম বাড়িয়ে দেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারের নজরদারি কম থাকায় বাজারে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে।

গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে।  গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে দর ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ টাকা, আর দুই সপ্তাহে ৩৫ টাকা। তবে কোথাও ব্রয়লারের কেজি ২৩০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে বলে শোনা গেছে। বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দামও। গতকাল এ ধরনের মুরগির কেজি বিক্রি হয় ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে। সপ্তাহ দুয়েক আগে দর ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।

মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ডিমের। গত সপ্তাহে ফার্মের বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১১০ টাকা। ১০ টাকা বেড়ে গতকাল ডজন বিক্রি হয় ১২০ টাকা দরে।

দাম বাড়ছে কেন জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া ব্রয়লার হাউসের বিক্রয়কর্মী এরশাদ আলী বলেন, প্রতিবছর ঈদের কয়েকদিন আগে মুরগির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে খামারি ও পাইকাররাও দাম বাড়িয়ে দেন। এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে।   

বড় খামারিরা সিন্ডিকেট করে এ সময় মুরগির দাম বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ তেজকুনিপাড়ার মুরগি ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেনের। তাঁর ভাষ্য, সরকার শুধু খুচরা বাজারে এসে খবরদারি করে। কিন্তু বড় খামারিদের ধরতে ভয় পায়। এ কারণে খামারিদের মর্জিমতো দর ওঠানামা করে।

ঈদের বাকি আছে দুদিন। সে কারণে ভিড় বাড়ছে সেমাই-চিনির দোকানে। সরেজমিন দেখা গেছে, ছোট-বড় প্রায় সব দোকানে ক্রেতা সামলাতে একপ্রকার হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা ও সাধারণ বা বাংলা সেমাই বিক্রি হতে দেখা গেছে। খোলা লাচ্ছা সেমাইয়ের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট আকারের প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই কেনা যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। এ ছাড়া খোলা সেমাইয়ের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে। 

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহে চিনির কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে। এ ছাড়া নুডলস, পেস্তা ও পোলাওয়ের চালের বিক্রিও বেড়েছে। তবে মাসখানেকের ব্যবধানে মানভেদে পোলাওয়ের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। প্রতি কেজি খোলা পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকার আশপাশের দরে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল কিনতে হলে কেজিতে খরচ করতে হবে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।

কিছুটা স্বস্তি রয়েছে রাজধানীর সবজিবাজারে। বেশির ভাগ সবজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। তবে শসা ও টমেটোর বিক্রি বেড়েছে। প্রতি কেজি শসা ৫০ থেকে ৬০ ও টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও আলুর দাম বেশ কম দেখা গেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ এবং আলু ১৮ থেকে ২০ টাকায় কেজি কেনা যাচ্ছে। তবে সবজির বাজারে ক্রেতা কম দেখা গেছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে