এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তারপরও জুলাই থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে (১৩ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা জুলাই থেকে নতুন কাঠামোতে বেতন পাবো, এতে কোনো সংশয় নেই।
তিনি আরও বলেন, নতুন বেতন কাঠামো কয়েক ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর কত অংশ জুলাই থেকে দেয়া হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
কর্মকর্তারা জানান, তিন অর্থবছরে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ যেমন কম হবে, তেমনি সরকারের অর্থায়নও সহজ হবে।
আগামী অর্থবছর থেকে মূল বেতনের অর্ধেক দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সংস্থান রাখা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
ওই হিসার অনুসারে আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর খসড়া বাজেট বক্তব্যে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরলে তিনি তাতে সম্মতি দিয়ে জুলাই থেকে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার গতবছর জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, যারা গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা গ্রেড ভেদে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশকৃত বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও পেনশনারদের সুবিধাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
সরকারের বর্তমান রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করে সরকার গঠিত কমিটি।