এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : চুলের স্টাইল, সুউচ্চ দেহ, নিখুঁত গড়ন আর রাজকীয় চলনের কারণে নাম দেয়া হয়েছে ‘নেইমার’। তবে এটি কোনো ফুটবলার নয়, যশোরের অভয়নগরের ডাঙ্গামশিহাটি গ্রামের খামারি নিরঞ্জন পাড়ে ও ইতি পাড়ে দম্পতির আদরের একটি ষাঁড়। কোরবানির হাটে ওঠার আগেই ১৬০০ কেজি ওজনের এই ‘নেইমার’ এখন পুরোজেলার প্রধান আকর্ষণ। এর দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।
জানা যায়, তিন বছর ধরে আদর-যত্নে নিরঞ্জন পাড়ে ও ইতি পাড়ে বড় করেছেন নেইমারকে। ‘ফ্লেকভি’ জাতের বিশালদেহী এ ষাঁড়টির শরীর কিছুটা বাদামী রঙের আর মাথা, মুখ ও গলার সামনের অংশ দেখতে সাদাটে। পা, পেট আর বাদামি রঙের শরীরে কয়েকটি সাদাটে স্ট্রাইপ যোগ করেছে বাড়তি চেহারা। মূলত এ কারণেই শখ করে ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’।
ষাঁড়টির সুউচ্চ দেহ, আর সুন্দর গঠন এবং মাথার সামনের বিশেষ চুলের স্টাইল সহজেই অন্য সব গরু থেকে আলাদা নজর কেড়েছে। আকৃতিতে বিশাল হলেও স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত ‘নেইমার’। তাই বেশির ভাগ সময় তাকে দড়ি ছাড়াই খামারের আশপাশে রাখা হয়।
ইতি পাড়ে জানান, নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে এই বিশাল ষাঁড়টিকে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। প্রতিদিন তিনবার গোসল করানো হয়। ‘নেইমারের’ খাবারের তালিকায় থাকে খৈল, ভুসি, কাঁচা ঘাস, খড়, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফল। নিয়মিত পরিচর্যায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ষাঁড়টির ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০০ কেজিতে।
তিনি আরও জানান, তার ষাঁড়টি ছোটবেলা থেকে খুব সুন্দর শান্তশিষ্ট। ও কারো অসুবিধা করে না, ছেড়ে দিলে চলে উঠানেই থাকে। সবাই ওকে ভালোবাসে। সবাই ওকে ভালোবেসে আদর করে গোপাল বলে ডাকে, আবার নেইমারও বলে কেউ কেউ।
ইতি পাড়ে বলেন, ‘সে সন্তানের মতো... সন্তানকে আর কিরাম লালন-পালন করতে হয়, তার থেকে মনে হয় আমার বেশি কষ্ট হয়েছে এই গরুটা বড় করতে।’
নিরঞ্জন পাড়ে বলেন, আমার ছেলে দেবু ইন্টারনেট ঘেটে ‘ফ্লেকভি’ জাতের গরু বাছাই করে। এরপর বাছুর সংগ্রহ করা হয়। তিন বছরের পরিচর্যায় এটি বড় বিশালদেহী হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার ও তিনবার করে গোসল করাতে হয় নেইমারকে। এ ষাঁড়টি হৃষ্টপুষ্ট করতে কায়িক পরিশ্রমের পাশাপাশি খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। ১২ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি। আশাকরি কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে পারবো।’
এ দিকে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই এক নজর নেইমারকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন , কেউ আবার ভিডিও করছেন।
শহিদুল ইসলাম শহিদ নামে একজন বলেন, ‘ষাঁড়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, তাই দেখতে এসেছি। ষাঁড়টি বেশ বড়। তা ছাড়া, ষাঁড়ের চুল একদম খেলোয়াড় নেইমারের মতো দেখতে।
আবু হানিফ নামে অপর একজন বলেন, ‘গরুটার নেইমার নাম, ছড়িয়ে পড়ায় দেখতে এসেছি। হেব্বি বড় গরু, খুব ভালো লেগেছে গরুটা দেখে। যশোর জেলার সবচেয়ে বড় গরু এটা। এ গরু আর অন্য জায়গায় নেই।’
আব্দুল ওহাব নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এ গরুটা দেখতে আসেন। এ রকম বড় গরু এখন এই এলাকায় নেই।’
জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘যশোরে এ বছর বেশ কয়েকটি বড় ষাঁড় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম নেইমার। আমাদের কর্মকর্তারা ষাঁড়টি দেখে এসেছে। তবে ওজন মাপা হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে নেইমারকে বড় করা হয়েছে। আশা করছি কোরবানির আগেই খামারি কাঙ্ক্ষিত দামে ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারবেন।’