বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ০৬:৫০:১০

‘দুই কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি’

‘দুই কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি’

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর ঈদের দিন বিকেল থেকে জমে ওঠে ছোট একটি অস্থায়ী বাজার। কোরবানির পশুর মাংস যেখানে অনেকের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে, সেখানে নিম্ন আয়ের একাংশ মানুষের জন্য ভরসা হয়ে উঠেছে ছাট মাংসের এই বাজার।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের ওপর প্লাস্টিকের শিট বিছিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ছাট মাংস বিক্রি করছেন। কোথাও হাড়ের সঙ্গে লেগে থাকা মাংস, কোথাও মাথার অংশ, আবার কিছু চর্বিযুক্ত ও তুলনামূলক ভালো মানের মাংসও রাখা আছে ছোট ছোট ভাগে। ক্রেতারা দরদাম করে সামর্থ্য অনুযায়ী আধা কেজি থেকে এক কেজি বা তারও বেশি মাংস কিনছেন।

ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ছাট মাংস ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দাম চাচ্ছেন। তবে ক্রেতাদের অনুরোধ ও দরদামের ভিত্তিতে কিছুটা কম দামে বিক্রিও হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, কোরবানির পর বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা এসব মাংস পরিষ্কার করে তারা বিক্রি করছেন।

তারা জানান, এই মাংসের বেশিরভাগ কশাইরা নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির গরুর মাংস কাটার কশাইরা ছাট হিসেবে যে মাংসে জমিয়েছেন তাই এখানে নিয়ে এসে বিক্রি করা হচ্ছে। ছাট মাংসের মধ্যে কিছু ভালো মাংসও আছে। সব এক সঙ্গে কেটে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

রিকশাচালক মিনারুল ইসলাম বলেন, গরুর মাংসের দাম অনেক বেশি। পুরো ভালো মাংস কেনার সামর্থ্য নেই। তাই এখানে এসে দুই কেজি মাংস কিনলাম। বাচ্চারা ঈদের দিনে একটু মাংস খেতে পারবে, এটাই শান্তি। বিক্রেতারা প্রতি কেজি মাংসের দাম ৪০০ টাকা বলছিলেন। দরদাম করে দুই কেজি মাংস ৫৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি।

এক রিকশাচালক মো. আলম বলেন, পরিবার নিয়ে আমি চার বছর ধরে ঢাকায় থাকছি। যে আয় করি তা দিয়ে কোরবানি দেওয়া সম্ভব না। আবার বাজারে মাংসের যে দাম তাতে আমাদের পক্ষে কেনাও কষ্ট কর। তাই এখানে মাংস কিনতে এসেছি। বাজারে এক কেজি মাংস যে দামে বিক্রি হয়, এখন থেকে সেই টাকা দিয়ে ৩-৪ কেজি মাংস কেনা যায়।

তিনি বলেন, গত বছর প্রথম আমি এখান থেকে মাংস কিনেছিলাম। গত বছর ভালো মাংস পেয়েছিলাম। সেজন্য আজকেও এখানে মাংস কিনতে আসছি। এখন থেকে বেছে কিনতে পারলে ভালো মাংস পাওয়া যায়। তবে এবার বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। অবশ্য দরদাম করার পর কিছুটা কম দামে কেনা যাচ্ছে।

ছোট মেয়েকে নিয়ে মাংস কিনতে আসা গার্মেন্টসকর্মী আলেয়া বেগম বলেন, ঈদের দিনে সবাই ভালো মাংস খায়। কিন্তু আমাদের মতো মানুষের পক্ষে সেটা সম্ভব না। বাজার থেকে এক কেজি ভালো মাংস কিনতে গেলে ৮০০ টাকার ওপরে লাগে। এত দাম দিয়ে তো মাংস কেনা সম্ভব না। তাই এখানে এসেছি কম দামে মাংস কেনার জন্য। দুই কেজি মাংস ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এই মাংস দিয়ে কয়েকদিন খেতে পারবো।

তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে কোরবানি দেওয়া সম্ভব না। যারা কোরবানি দিচ্ছেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস চেয়ে আনাও সম্ভব না। ঢাকায় যারা কোরবানি দেয়, তাদের বাড়ি বাড়ি বিলাতেন খুব কম করে। বেশিরভাগ মানুষ তাদের বাজার সামনে যারা দাঁড়িয়ে থাকে তাদের মাংস দেয়। এটা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই যতটুকু পারি, ছাট মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

একজন বিক্রেতা আরিফুল বলেন, আমি চারটা গরু কাটার কাজ পেয়েছিলাম। এখানে সেই গরুর কিছু ছাট মাংস ও ভালো মাংস নিয় এসে বিক্রি করছি। যাদের গরু কাটার দায়িত্ব পেয়েছিলাম, তারা কিছু ভালো মাংস দিয়েছেন। সব একসঙ্গে কেটে বিক্রি করছি। আমাদের কাছ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও রিকশাচালকরাই বেশি মাংস কিনছেন।

তিনি বলেন, সবাই একসাথে ভালো মাংস নিতে পারে না। তাই আমরা ভালো ও ছাট মাংস মিশিয়ে বিক্রি করছি। ছাট হলেও এগুলোও ভালো মাংস। এই মাংসের সাধ অনেক। আমাদের কাছ থেকে কেউ আধাকেজি, কেউ এক কেজি আবার কেউ কেউ ৩-৪ কেজি করেও কিনছেন।

আরেক বিক্রেতার মো. কালাম বলেন, আমাদের মাংসের মধ্যে শুধু ছাট নয়, মাথার মাংস, চর্বি এবং কিছু ভালো অংশও আছে। যার যতটুকু সামর্থ্য, সে ততটুকুই নিচ্ছে। আমি নিজে দুটি গরু কাটার কাজ করেছি, সেই গরুর মাংসের অংশ এখানে আছে। এছাড়া আরও দুইজনের কাছ থেকে কিছু কিনেছি। সব একসঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করছি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে