রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:২৪:১৮

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়লা পাওয়া গেছে।  পরিবেশগত কারণেই শিশুদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। 

শনিবার (৩০ মে) বিকালে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। 

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সময় বাড়ানো হয়েছে।  নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের পর্যবেক্ষণ দেখেছি। তবে এ ঘটনায় যাদের বাচ্চারা মারা গেছে তাদের সবার সঙ্গে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তাই তারা সময় চেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি প্রতিবেদন চাই যেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না। তাই এমন প্রতিবেদনে মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য খুবই জরুরি। কিছু মা ঢাকার বাইরে থাকায় আরও দুই থেকে তিন সময় সময় লাগবে। যে কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আগামী ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত ছাড়া কীভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে– এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এত ছোট বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা কেউ ময়নাতদন্ত করতে রাজি হয়নি। তবে আমরা সব দিক থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব মৃত্যুর আসল কারণ জানতে।

হাসপাতাল ভবনের উপরের একটি তলায় ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়া গেছে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেখানে ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি হতো। তবে এখানে কোনো ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়নি। এ কারখানা থেকে এমন কিছু গ্যাস তৈরি হতে পারে কিনা, যেটা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে সেটি দেখা হবে। এটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকাল হাসপাতালে আবার বিশেষজ্ঞ দল আসবে।

রুটির কারখানার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আসলে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাদের স্বজন থাকার কথা। এমন জায়গায় রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। আমাদের পরিদর্শন বা ইন্টিলিজেন্সের অভাব, তাই এমন হয়েছে। ভবিষ্যতে নজরদারি করা হবে এসব।

তিনি বলেন, এখানে আরও একটা জায়গায় অনেক পানি জমা ছিল। পানি, রুটির কারখানাসহ এসব থেকে এমন কোনো পদার্থ বা গ্যাস বের হয়ে শিশু মৃত্যুর কারণ হতে পারে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্যদের বিষয়ে প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে কমিটিতে ছয়জন সদস্য কাজ করছে। কমিটি করার সময় নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়ে উল্লেখ ছিল, যাতে হাসপাতালের পরিবেশ, করিগরি অবস্থাসহ সব কিছুর বিষয়ে জানতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে পারেন তারা। সেটা করা হয়েছে।

কুরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে