এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রবেশ করে চাকরিজীবীদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নতুন স্কেলে বেতন ও বকেয়া অর্থ পরিশোধের হিসাব চূড়ান্ত করবে সরকার। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলের বাড়তি বেতন হাতে পাওয়ার আগে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা। কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে প্রক্রিয়াটি আটকে যেতে পারে। এ কারণে ইতোমধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বিভাগওয়ারিভাবে ৫ থেকে ২০ অক্টোবর পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। শিগ্গিরই সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেবে অর্থ বিভাগ।
এদিকে অর্থ বিভাগের ১৯ সেপ্টেম্বর জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আলোকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান ধাপ হচ্ছে এই পে-ফিক্সেশন। পুরো প্রক্রিয়াটি আইবাস প্লাস প্লাস-এর পে-ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ধারিত সময়ে আইবাস প্লাস প্লাস-এ প্রবেশ করে নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন, আগের পে-ফিক্সেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি, বদলি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও অন্যান্য নথিও প্রস্তুত রাখতে হবে।
তথ্য দেওয়ার আগে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড এবং বেতনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। পে-ফিক্সেশনের ভিত্তিতেই নতুন স্কেলে একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারিত হবে। পরে সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।
যেভাবে হবে পে-ফিক্সেশন : পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে সরকারি চাকরিজীবী আইবাস প্লাস প্লাস-এ পে-ফিক্সেশন পোর্টালে প্রবেশ করবেন। পরিচয় যাচাইয়ের পর চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে মিল রেখে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রযোজ্য গ্রেড ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে। পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের মতো বিষয় থাকলে সেগুলোর তথ্যও দিতে হবে। সব তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি থাকলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত করবেন।
তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে : নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ এখন বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের এরিয়ার (বকেয়া) একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়া হিসাব করা হবে। কোনো চাকরিজীবীর তথ্য অনলাইনে দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
হিসাব কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ : পে-ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস কর্মসূচির আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস স্কিমের উদ্যোগে বিশেষ অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আওতাধীন প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুম প্ল্যাটফর্মে এতে অংশ নিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে কর্মচারীর তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ সঠিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে পে-ফিক্সেশন দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে নতুন স্কেলে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ কারণে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।
উচ্চতর গ্রেডে নতুন ‘জটিলতা’ : নতুন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগের বেতন কাঠামোয় টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন স্কেলে হিসাব কীভাবে হবে, তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বা পদোন্নতি পাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থ বিভাগে আবেদন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, আগের বেতনস্কেলে একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ নেই। আবার ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একটি মাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের পে-ফিক্সেশনে শুধু বর্তমান বেতন নয়, আগের উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি ও বেতন নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।