এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি পলাতক ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির গোপন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন, বিশেষ করে যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নিষ্ক্রিয় সদস্যকে অর্থায়ন করে এই তৎপরতায় নামানোর চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভেতরে থাকা আওয়ামীপন্থি বেশকিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। এদেরই একজন ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি রাকিবুল হাসান। কেবল রাকিবুল একাই নন, তার মতো অনেকেই গোপনে এখনো বিগত শাসকগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের আশা প্রকাশ করছেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও ক্লিপ ও দিকনির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংকটগুলোকে হাইলাইট করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দৃশ্যমান কর্মসূচির বদলে ছোট ছোট গ্রুপ বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে যোগাযোগ রেখে কর্মী ভিত্তি টিকিয়ে রাখার কৌশল হাতে নিয়েছে দলটি।
এদিকে দেশে কিছুটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার জন্য গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে- এমন তথ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো বিভাগ। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা।
আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি প্রবেশপথ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বা নিষিদ্ধ সংগঠনের যে কোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পুলিশের তৎপরতা চলছে।
পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, সরকারি নির্দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত রয়েছে। তাই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম করতে না দেওয়া এবং তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।