স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপার সম্ভাবনা, গ্রুপ পর্বের হিসাব, নকআউটের সমীকরণ থেকে শুরু করে ম্যাচের ফল পর্যন্ত অসংখ্য পূর্বাভাস দিয়েছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। টুর্নামেন্ট এখন সেমিফাইনালে। এ পর্যন্ত ফিরে তাকালে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ বড় পূর্বাভাসই মিলেছে। তবে কয়েকটি চমকপ্রদ ফলাফল সুপারকম্পিউটারের হিসাবও উল্টে দিয়েছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ম্যাচের ফল, নকআউটে ওঠা দল এবং শিরোপা সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিক পূর্বাভাস দিয়ে আসছে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটার। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ফলাফলের সঙ্গে সেই পূর্বাভাস মিলিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হয়েছে। তবে কয়েকটি বড় অঘটন ধরতে পারেনি এই পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অপ্টা স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ফ্রান্স সবচেয়ে বড় ফেভারিটে পরিণত হলেও এই চার দলই শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে শিরোপার প্রধান দাবিদার নির্ধারণে অপ্টার বিশ্লেষণ অনেকটাই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
নকআউট পর্বেও ছিল সুপারকম্পিউটারের দারুণ সাফল্য। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচের চারটিতেই সঠিক বিজয়ীর পূর্বাভাস দেয় অপ্টা। ফ্রান্স হারায় মরক্কোকে, স্পেন বিদায় করে বেলজিয়ামকে, ইংল্যান্ড জয় পায় নরওয়ের বিপক্ষে এবং আর্জেন্টিনা পরাজিত করে সুইজারল্যান্ডকে। চার ম্যাচের ফলই আগেভাগে সঠিকভাবে অনুমান করেছিল অপ্টার মডেল।
তবে সব পূর্বাভাস যে মিলেছে, তা নয়। বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসকে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল অপ্টা। কিন্তু জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস প্রত্যাশার আগেই বিদায় নেয়। ব্রাজিলও শেষ ষোলো থেকেই ছিটকে পড়ে।
অন্যদিকে নরওয়ে ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক। তুলনামূলক কম সম্ভাবনা পাওয়া দলটি শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে। এই ফলাফল অপ্টার পূর্বাভাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, অপ্টা সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের নিশ্চিত ফল ঘোষণা করে না; বরং লাখ লাখ সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে। তাই অঘটনের সুযোগ সব সময়ই থাকে। তবুও সেমিফাইনালে ওঠা চার দল এবং কোয়ার্টার ফাইনালের সব ম্যাচের ফল সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিতে পারায় ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পারফরম্যান্সকে বেশ সফলই বলা যায়।