স্পোর্টস ডেস্ক : কথায় আছে, অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকলে জীবন সুন্দর মতো চলবে না। তবে এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে আর্জেন্টিনা চাইলে অতীতকেই আঁকড়ে ধরতে পারে। কেননা অতীতেই লুকিয়ে আছে তাদের মঙ্গল।
সেটা কিভাবে? চলুন জেনে নেই। ইতিহাস জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত ৬ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। যার কোনোটিতেই হারেনি তারা।
এবার সপ্তমবারের মতো শেষ চারে খেলবে তারা। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে অতীতই লিওনেল মেসিদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ইতিহাস তাই জানাচ্ছে এবারও ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা। তবে ইতিহাস পক্ষে থাকলেই হবে না, কাজটা করতে হবে মেসি-হুলিয়ান আলভারেজদেরকেই।
ঠিক যেমন আগের সেমিফাইনালে তাদের পূর্বসূরি কিংবা নিজেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার খেলা সেমিফাইনালগুলোর ফলাফল।
আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল খেলার শুরুটা হয় ১৯৩০ বিশ্বকাপে। উরুগুয়ে বিশ্বকাপে সেবার যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারায় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়বার সেমিফাইনাল খেলার জন্য ৫৬ বছর অপেক্ষা করতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেবার দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ফল ছিল ২-০। মাঝে অবশ্য ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার সেমিফাইনালের ফরম্যাট ছিল না।
১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এবার ইতালিকে টাইব্রেকারে হারায় আলবিসেলেস্তারা। মূল ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা।
২৪ বছর পর আবারও সেমিফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকারে হারিয়ে মারাকানায় ফাইনাল খেলেন মেসিরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে সেবার ম্যাচের ফল ছিল ০-০।
মারাকানায় বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার খুব কাছে গিয়ে পারেননি মেসি। তবে সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেই স্বাদ পান তিনি। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অমরত্বের স্বাদ পাওয়ার আগে তার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায়। সেমিফাইনালের ফল ছিল ৩-০।
এবার ইতিহাসের বইয়ে আরেকটি পৃষ্ঠা যোগ হবে নাকি ওখানেই দাঁড়ি পড়বে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। ফল দেখতে আগামী ১৫ জুন রাতে আটলান্টায় রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ইংল্যান্ড নাকি আর্জেন্টিনা জয়ের হাসি হাসবে।