স্পোর্টস ডেস্ক : নিজ শহর লন্ডনে সোমবার বসছে ব্যালন ডি’অরের আসর। বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড ও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন আশা করছেন, ঘরের মাঠের এই রাতটি তার জন্য ‘বিশেষ’ কিছুই হতে যাচ্ছে। বাজির দরপত্রেও এবার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন। তার পা থেকে এসেছে ৭৩ গোল! ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, একমাত্র লিওনেল মেসির ২০১১-১২ মৌসুমের ৮২ গোলের পর এক মৌসুমে কেইনের এই গোলসংখ্যাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরার দৌড়ে কেইন বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ফলাফল নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক লড়াই হতে যাচ্ছে এবার।
বায়ার্ন তারকার পথ মোটেও মসৃণ নয়। লড়াইয়ে তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী জুটি লামিন ইয়ামাল ও রদ্রি। পিছিয়ে নেই ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং কেইনের ক্লাব সতীর্থ মাইকেল ওলিসও।
ইয়ামাল কিংবা এমবাপ্পেদের মতো তারকাদের ব্যালন ডি’অর জয়ের দাবি নিয়ে গণমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলতে দেখা গেলেও কেইন বরাবরই নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত ও সংযত মনোভাব বজায় রেখেছেন।
নিজের সম্ভাবনা নিয়ে কেইনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি এগুলো নিয়ে খুব একটা ভাবতে চাই না। সত্যি বলতে, মাথায় না আনাটা কঠিন। চারদিকে কত রকমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাই এসব থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করছি। সোমবার রাতের মুহূর্তটি আমি কেবল উপভোগ করতে চাই। এটা নিঃসন্দেহে বিশাল এক আয়োজন, দারুণ এক মুহূর্ত।
ব্যালন ডি’অর বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। একক পারফরম্যান্স ও মাঠের ব্যক্তিত্ব, দলীয় সাফল্য এবং আভিজাত্য ও ফেয়ার-প্লে।
সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাস বলছে, বিজয়ীদের ঝুলিতে হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপের মতো বড় ট্রফি ছিল, নয়তো কেবলই গোলের অবিশ্বাস্য পাহাড় গড়ে ট্রফিটি জিতে নিয়েছেন তারা। পরিসংখ্যানের দিকটি বিবেচনা করলে কেইন সেখানে শতভাগ সফল।
টটেনহ্যামে থাকার সময়ে দলীয় ট্রফি না পাওয়ার যে তকমাটা লেগেছিল, বায়ার্নে এসে গত মৌসুমে জোড়া ট্রফি (লিগ ও কাপ) জিতে তা ঘুচিয়েছেন কেইন। ক্যারিয়ারে দলীয় ট্রফির সংখ্যা এখন পাঁচে রূপ নিয়েছে। তবে জার্মান ফুটবলে বায়ার্নের এই একচ্ছত্র আধিপত্য তার ব্যক্তিগত এই অর্জনের পথে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের যাত্রা থেমেছিল সেমিফাইনাল থেকে। সেখান থেকেই কষ্টার্জিত জয়ে ফাইনালে উঠে পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পিএসজি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ফুটবল দল হয়েছে তৃতীয়, আর কেইনের পা থেকে এসেছিল ছয় গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।
সবশেষ ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। আর বায়ার্ন মিউনিখের শেষ খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৮১ সালে এই সম্মাননা হাতে তুলেছিলেন আরেক স্ট্রাইকার কার্ল রুমেনিগে।
কেইন বলেন, সোমবারের রাতটা বিশেষ কিছু হতে পারে, তবে আমাদের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। এ নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না, কারণ রোববারেও আমাদের আরেকটা মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি জানি এটা ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা আয়োজন। আমি সত্যিই এর জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আশা করি, রাতটি বিশেষ কিছুই হয়ে থাকবে।