এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে পানি ঢুকে নাকাল অবস্থা। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নগর জীবনে।
ভারী বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
নগরীর মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগানবাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশলাইনস, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহর তলীর ছায়া বিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বিলম্বে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে সহানুভূতিশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। জরুরি বিভাগেও পানি জমে রয়েছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, বাইরে থেকে পানি হাসপাতাল চত্বরে ঢুকেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলে পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নগরীর সালাউদ্দিন মোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী দিদারুল আলম সুমন বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম তার দোকানের ভেতরে পানি ঢুকেছে।
একই এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, তার বাসার নিচ তলায় পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেন ও নালা দিয়ে পানি ধীর গতিতে নামায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ পানিতে ডুবে থাকা সড়কে পড়ে গেছেন। এ সময় অভিভাবকদেরও পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার বলেন, এ কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষের ভেতরে পানি ঢোকেনি। যেসব পরীক্ষার্থী জলাবদ্ধতার কারণে কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন, তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ও সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে কোনো কেন্দ্রের পরীক্ষার কক্ষে পানি ঢোকেনি। জলাবদ্ধতার কারণে বিলম্বে কেন্দ্রে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়বে না।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগ থেকেই আমি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অবস্থান করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন।