এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করেছেন মীর মো. আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায়।
ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন কৈশোর থেকে পারিবারিক নীতি বিচ্যুত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
গত ৬ মার্চ নেত্রকোনা জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে ছোটনকে ত্যাজ্য করে আব্দুল মালেক একটি অ্যাফিডেভিট করেন; যার নাম্বার ৩১০।
পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকাংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং বিভিন্ন সময়ে তার দাবি- দাওয়া আদায়ে অসদাচারণের কারণে তার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে তিক্ততার সম্পর্ক চলমান রয়েছে। এসব কারণে ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন বলে অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন আব্দুল মালেক।
নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এ অ্যাফিডেভিট করেন মীর মো. আব্দুল মালেক।
অ্যাফিডেভিটে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও ছেলে ছোটন তার নিষেধ উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। এ ঘটনা জানার পর তিনি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ছেলে কোনো বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে তার দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মীর মো. আব্দুল মালেক বলেন, আমাকে এ কাজটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে তার রাজনীতি থেকে ফেরাতে পারিনি। তাই তার মঙ্গলের জন্যই ত্যাজ্যপুত্র করেছি।
এ বিষয়ে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন মোবাইলে বলেন, আমি প্রায় ৩ বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। কারণ তারা সবাই বিএনপি করেন। আমার বড় ভাইও সাবেক ছাত্রদল নেতা। আমি ছাত্রলীগ করি বলে গত আগস্ট মাসেও ফেসবুকে আমার বাবা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এখন দেখলাম, আমাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছে। তাতেও আমার দুঃখ নাই, আমি ছাত্রলীগই করব।