শুক্রবার, ২৭ মে, ২০১৬, ১০:০৭:১৩

ইক্কিনি ইতিবৃত্ত

ইক্কিনি ইতিবৃত্ত

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু: আম্মা দেশে ,আব্বা চাকুরীর ব্যস্ততায় ,আমাদের বাসায় আমি একা বাসার সামনে বসে আড়ি খোলা রেলওয়ে স্টেশনের কোয়ার্টারের ছেলেমেয়েদের খেলা দেখছিলাম। বাবা মাস কয়েক হলো ময়মনসিংহ থেকে বদলী হয়ে এসেছেন , তাই এখনো সব ছেলে মেয়েদের সাথে সখ্যতা হয়ে উঠে নি। দূর থেকে বড় মাস্টারের মেয়ে, মায়া আপু এগিয়ে আসলেন ,মন খারাপ দেখে বললেন,
তোমার নাম কি ,বললাম বাবু ,এসো আমাদের সাথে খেলা করবে।
বললাম বাসায় কেউ নেই। আমু দেশে ,আব্বাও লাইনে গেছে।
তাহলে তো আরো মজা ,তোমাদের বাসায় খেলা করতে পারি।
আমি হেসে দিলাম।
মায়া আপু সবার লিডার। ডাকলেন সবাইকে।
আমি সবাইকে বাসায় ভিতর ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। মায়া অপু ভাবলেন ছোট্ট পরিসরে কি খেলা যায় , মায়া আপুর ছোট বোন্ শিল্পী ,দুজনেই লম্বা ছিপ ছিপে গড়নের।
মায়া আপু বললেন, তুমি আমার ছেলে ,আর ও শিল্পীর মেয়ে।
আমি মায়া অপুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনি বললেন আরে সত্যি সত্যি নয় মিছামিছি। বাকিরা হেসে উঠলে মায়া অপু চোখ রাঙ্গালেন , বললেন তোমরা বর যাত্রী.
শুরু হয়ে গেলো খেলা মিছা মিছি বউ জামাই খেলা , গায়ে হলুদ থেকে বিয়ে পড়ানো, বিয়ে পড়ানো থেকে কবুল বলা পর্যন্ত। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো। তা না হলে জানি না বাসর হতো কি না। মিছা মিছি বাসর ?

১৯৮৬ সালে প্রথম সে খেলাতেই প্রথম দেখেছিলাম। ভাষা গত দিক থেকে আমার বউ আর আমি নোয়াখালীর। একদিনের খেলার সাথী আমার বউ নামটা পরে বলি এখন মনে আসছে না সিওর এখনি মনে পড়বে। মায়া আপুরা কলনী থেকে চলে গেছে পরের বছর. মেয়েটির সাথে দেখা হয়েছিল ৯০ সালে। আমি চিনতে পারিনি। সাইকেলে স্কুল থেকে ফিরছিলাম, এস,এস,সি র বছর,সাইকেলের সামনে দাড়ালো ইয়া বড় এক হাতি,জালি জালি জর্জেটের লাল জামা,ফরসা লাল টুক টুকে এক মেয়ে হাতি, কামিজ আঁকড়ে ধরে ছিলো তার ফুটন্ত যৌবনকে।আমি লাফ দিয়ে ব্রেক কষে নামলাম,আমার চোখ একবার দেখেনিলো হাতিটিকে একেবারে নায়িকা মৌসুমীর মতো। কিছু বলার আগেই বলল,
আজ এক হাপ্তাহওই গেলো, আন্নের বো আইছে আন্নের খবর নাই।
আমি চুপ।
আন্নে অন অ “ইক্কিনি” রই গেছেন।
বাসার দিকে মুখ ফিরতেই নুপুরের হাত ধরে আন্টি এলেন,যাকে সবাই সায়মার মা বলে ডাকে।বুঝতে আসুবিধা হলো না, মেয়েটি রেক্সানা, জলিল সাহেবের শালিকা, রেহানার খালা, চার বছরে বালিকা থেকে হয়ে গেছে তরুনী।বাড়ন্ত গড়নের রেক্সানার সাথে এক দিন জামাই বউ খেলা খেললেও আমি লজ্জায় কথা কম বলতাম, মিশুক মেয়েটি চাইতো ওকে সময় দেই। পারিনি, কেন?
অই যে ইক্কিনি। মানে সাইজে ছোট ছিলাম। সামান্য দেহ ক্ষিনকায় শরীর নিয়ে আমি বেমানান ছিলাম, তার পাশে ।
আমি এস এস সির পরা শোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম .
একদিন স্কুলে যাবার সময় তড়ি ঘড়ি এ দিক ওদিক খুঁজছি ,
পাচ্ছিলাম না। আম্মাকে বললাম ,আম্মা বললেন কোথায় রাখিস ,
এর মাঝে ও এলো,  ব্যস্ততা দেখে বললো কি খুজিস ,বলছি না লজ্জায়। কয়েক বার জিগ্গেস করে রাগ হলো বললাম আন্ডার ওয়ার ,
কি ?
এবার বললাম জাইঙ্গা,
কয়টা ,
আরে ভাই একটা ,আবার কয়টা।
মাত্র ওগ্গা, আর তো মেলা।
তুই ও গুলো দিয়ে কি করিস।
হিনদি (পরি)
আম্মা দিলেন ধমক, এই নে তোর্ প্যান্টের ভিতর ই ছিলো আর চোখ বড় করে ওরঅর দিকে তাকালেন।
সে দিন জানলাম, মেয়েরাও আন্ডার ওয়ার পরে.এর পর মাঝে মাঝে কথা হলে বলতো.

তুই এত ছোঢ কিল্লাই দেইখতে, বিয়ার হ্রস্তাব আইসতেছে,
তত দিনে
...
২৭ মে, ২০১৬ এমটিনিউজ২৪/এইচএস/কেএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে