সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:২৭:২১

শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁয় হঠাৎ চালের কেজি কত হলো জানেন?

শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁয় হঠাৎ চালের কেজি কত হলো জানেন?

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : উত্তরের শষ্য ভান্ডার খ্যাত জেলা নওগাঁয় বেড়েছে সব ধরনের সরু চালের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে সরু চাল ১ থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা। তবে মোটা জাতের চাল স্বর্না-৫ দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সারা বছরের সরু চাল বোরো মৌসুমে উৎপাদিত হয়। যেহেতু বোরো মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়েছে, এ কারণে বোরো ধানের যোগান বাজারে কমে এসেছে। এতে সরু চালের দাম বেড়েছে। চালের দাম বাড়ায় অস্বস্থিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো। ধান-চালের জেলায় চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। এ অবস্থায় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে চাল আমদানি করার কথা জানান ভোক্তারা।

নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪-৫ টাকা দাম বেড়ে প্রতি কেজি কাটারিভোগ চাল বিক্রি হচ্ছে  ৭৫-৭৬ টাকা, জিরাশাইল ৬৮-৭০ টাকা, ব্রিআর-২৮ চাল ৬০-৬২ টাকা এবং আতব চাল ১৩০ টাকা। তবে কেজি প্রতি পাঁচ টাকা দাম কমে স্বর্না-৫ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। 

দুই সপ্তাহ আগে এ বাজারে প্রতি কেজি কাটারিভোগ চাল ৭০-৭২ টাকা, জিরাশাইল ৬৪-৬৬ টাকা, ব্রিআর-২৮ জাতের চাল ৫৭-৬০ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৫৪-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় মোট ধানের  ৫১ শতাংশ সরু এবং ২৯ শতাংশ মোটা জাতের ধান উৎপদান হয়।  বাকিগুলো সুগন্ধি জাতের। জেলায় বোরো মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়। তবে সরু ধানের আবাদ হয়ে থাকে বোরো মৌসুমে। যা দিয়ে সারা বছর জেলার এবং জেলার বাইরের চাহিদা মেটানো হয়।

শহরের চকমুক্তার মহল্লার অটো রিকশাচালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাই। দিনে আয় হয় ৭০০-৮০০ টাকা। এরমধ্যে ৩৫০ টাকা গ্যারেজ ভাড়া দিতে হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩ জন। প্রতিদিন ১ কেজির ওপর চাল লাগে। এছাড়া শাক-সবজি ও মাছসহ অন্য বাজারও লাগে। যে পরিমাণ আয় হয় তা দিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এরমধ্যে চালের দাম বেড়েছে। চালের দাম বাড়ায় আমাদের মতো মানুষদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। 

দিনমজুর আফসার আলী বলেন, বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে ১০ কেজি করে চাল লাগে। এক সপ্তাহ আগেও জিরাশাইল ৬৪ টাকা করে কিনেছিলাম। এখন সেই চাল ৬৮ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। শুধু চাল কিনলে তো হবে না সাথে সবজি ও মাছ সহ অন্য বাজারও লাগবে। আমরা চালের দেশে বসবাস করি। তারপরও বেড়েছে চালের দাম। শুধু এখানে না, সারাদেশে এখন দাম বাড়বে। ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটও হতে পারে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবী করছি।

খুচরা চাল বিক্রেতা রাশেদুল হক বলেন, আমরা সরু চাল ঠিকমতো পাচ্ছি না। বেশি দামে চাল কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। চালের দাম বাড়ায় বেচাকেনাও কমে গেছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানো দরকার। চালের আমদানি বেশ কিছুদিন থেকে বন্ধ আছে, এর প্রভাবও পড়েছে বাজারে। চালের আমদানি শুরু হলে স্বাভাবিক হতে পারে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, পাইকারি মোকামে সরু চালে কেজিতে ১ টাকা থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। কারণ বোরো ধানের মজুদ শেষ হয়ে এসেছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে আসায় কাটারিভোগ ও জিরাশাইল ১ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের বাজার বাড়তি হওয়ায় চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে। বাজারে ধানের সরবরাহ ভালো থাকায় ১ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম কম থাকায় চালের দামও কম আছে। মোট জাতের চালগুলোতে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে