বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৫:৫২

শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেন আর্জেন্টিনা সমর্থক শিক্ষক!

শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেন আর্জেন্টিনা সমর্থক শিক্ষক!

নওগাঁর সদর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে ব্যঙ্গাত্মক গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে বিদ্যালয়সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। 

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিদ্যালয় চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থীরা গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং এক টুকরো বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেন আর্জেন্টিনা সমর্থক শিক্ষক।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার অভিযোগ করে বলে, সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সমর্থন করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে শ্রেণিকক্ষে ব্যঙ্গ করে গান গাইছিলাম। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে মারধর করেন।

একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের ভাষ্য, আমরা তিনজন খেলা নিয়ে গান গেয়েছিলাম। এরপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছানাউল হাবিব বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে