আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। গত জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর দেশটির পণ্যবাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় চাপে পড়েছে মূল্যবান এই ধাতু।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভমিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ রুপিতে উঠেছিল। গত শুক্রবার লেনদেন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪২ হাজার ২৪ রুপিতে।
এতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম কমেছে ৩৮ হাজার ৭৫৫ রুপি, যা রেকর্ড দরের তুলনায় ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। ২৬ অক্টোবরের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি রুপি প্রায় ১ টাকা ৩০ পয়সা হিসাবে এই পতনের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। এক ভরি সমান প্রায় ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে প্রতি ভরিতে দাম কমেছে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই ভারতের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এক সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। একই সময়ে রুপার দামেও দুর্বলতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে স্বর্ণের মতো সম্পদের দামের ওপর চাপ পড়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দরপতনের পর কিছু বিনিয়োগকারী নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি করেছেন।
তবে দীপাবলি ও বিয়ের মৌসুমকে কেন্দ্র করে ভারতে গয়নার চাহিদা বাড়তে পারে। বিশ্লেষক পনমুদি আরের মতে, এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনস্তর। দাম এই স্তরের ওপরে থাকলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম আবার বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়।