সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪:৩৭

এবার বড় পতন জ্বালানি তেলের দামে

এবার বড় পতন জ্বালানি তেলের দামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে সৌদি আরবে নতুন করে হামলার খবর ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। আগের লেনদেন শেষে এ দাম ছিল ১১১ দশমিক ৭০ ডলার।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ডিসেম্বর সরবরাহের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ২ ডলারে দাঁড়ায়। আগের দিনের লেনদেন শেষে দাম ছিল ১০৩ দশমিক ২৩ ডলার।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের আপাতত হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

হোয়াইট হাউস থেকে মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি আপনাদের সেটা বলতাম? তবে উত্তর হলো, না। কোনো হামলা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে দুটি ভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে এবং পাওয়া তথ্যগুলোকে তিনি ‘খুবই উন্নত’ বলে বর্ণনা করেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তেহরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে বাঘাই বলেন, ‘ইরান কখনো আলোচনার টেবিল ছেড়ে যায়নি। সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবিতে অনড় থাকা এবং সেগুলো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।’

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলপথটি ‘নিরাপদ নয়’। এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তেহরান সফর করেন।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার দাবি করেছে।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনটির অপরিশোধিত তেল পাম্পিং স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘পেট্রোলাইন’ নামে পরিচিত পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে লোহিত সাগর উপকূলের শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল সরবরাহের বিকল্প পথ পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ তেলের বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিলেও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার দাবি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।