শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:২৩:২৩

গণপিটুনির পর ১৮ লাখ টাকার চেক দিয়ে মুক্তি পেল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

গণপিটুনির পর ১৮ লাখ টাকার চেক দিয়ে মুক্তি পেল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : কৌশলে নিজের বিয়ে ভাঙার চেষ্টা করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন শরীফ মাহমুদ সান নামের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা। মুচলেকা ও দেনমোহরের ১৮ লাখ টাকার চেক জমা দিয়ে তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। 

শরীফ মাহমুদ সান মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া এলাকায়। শরীফ মাহমুদ ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শরীফ মাহমুদ সানের সাথে নবম শ্রেণির পড়ুয়া স্থানীয় এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি উভয় পরিবার জানতে পেরে এক বছর আগে উভয় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাদের কাবিন হয়। এরমধ্যে শরীফ মাহমুদ সান অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

বিষয়টি কনের পরিবার জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। এরপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। মঙ্গলবার ছিল তাদের গায়ে হলুদ। বুধবার বরযাত্রী কনের বাড়িতে যান।

এর আগে শরীফ মাহমুদ তার বিয়ে ভাঙতে বাল্য বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর প্রশাসনকে জানাতে তার বন্ধুদের সহায়তা প্রেমিকাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠান। দুপুরে আত্মীস্বজনসহ অতিথিদের আপ্যায়ন শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরমধ্যে শরীফ মাহমুদ ফোনে তার বিয়ে ভাঙতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিয়ে বাড়িতে যেতে বলেন। কনে পক্ষের লোকজন এমন কথা শুনতে পেয়ে শরীফ মাহমুদকে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে তার শেরওয়ানী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে গণধোলাই দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। বরযাত্রী আসা অন্য অতিথিরা সটকে পড়েন।

ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মাতাব্বর এবং উভয় পক্ষের আলোচনায় শরীফ মাহমুদ এমন ঘটনা আর ঘটাবেন না বলে মুচলেকা দেন। শরীফ মাহমুদের বাবা আদম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম পুত্রবধূর দেনমোহরের পাওনা ১৮ লাখ টাকার চেক দেন বলে জানা গেছে।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মাতাব্বররা সন্ধ্যায় কনের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে