এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দেশের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে আস্থার সংকটে থাকায়, জটিল রোগে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই, ভেলোর, কোলকাতাসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছুটে যান।
চিকিৎসায় আস্থা, ভাষা ও খাদ্যাভ্যাসে মিল আর তুলনামূলক কম খরচের কথা বলে, দেশটির এ খাতের ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশি চিকিৎসা পর্যটকদের টানতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। ফলে বিগত বছরগুলোয় চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের ভারতে যাওয়ার প্রবণতা ব্যপক মাত্রায় বাড়ে।
দেশটির সরকারি তথ্যমতে, ২০১৭ থেকে সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ভারতে বাংলাদেশি চিকিৎসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫ জন। যা সেখানে যাওয়া মোট বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ। পরবর্তী বছরেও ভারতে যাওয়ার এই ধারা অব্যাহত ছিল। ২০২৩ সালে দেশটিতে চিকিৎসার জন্য যায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭০ জন। যা চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া বিদেশিদের প্রায় ৭১ শতাংশ।
তবে, গত ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর এ চিত্রে আমূল পরিবর্তন দেখা দেয়। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টিতে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম অপ্রত্যাশিতভাবে সীমিত করা হয়। ফলে এখন চিকিৎসার বিকল্প স্থান খুঁজছেন বাংলাদেশিরা। এরইমধ্যে চিকিৎসা নিতে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের পাশাপাশি চীনের মতো দেশকে বেছে নিচ্ছেন তারা।
কয়েকটি হাসপাতালে বাংলাদেশিদের চিকিৎসায় অগ্রাধিকারের ঘোষণা দেয় চীন। এরই মধ্যে গত ১০ মার্চ চিকিৎসা পেতে উন্নয়ন সহযোগী দেশটিতে যায় একদল বাংলাদেশি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য খোলে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্প্রতি চীন সফরকালে দেশটির হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দেশটিতে কম খরচে যাতায়াতসহ দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেও এ ব্যাপারে জানানো হয় সাংবাদিকদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বাইরের দেশে চিকিৎসা নেয়া বাংলাদেশিদের জন্য সুখকর বিষয় না। জটিল রোগের চিকিৎসায় স্বল্পসংখ্যক মানুষ বিদেশ নির্ভর হতেই পারে। তবে আমাদের দেশেই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া দরকার।’
কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসার বিকল্প দেশ বাছাই না করে, বরং দেশের চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে এ খাতে চীনের বিনিয়োগ পেতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান জানান, প্রয়োজন হলে বিদেশি সহায়তা নিয়ে চিকিৎসাসেবার ঘাটতি পূরনের মাধ্যমে দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার।
ভারত নির্ভরতার বদলে চীন কিংবা নতুন কোনো দেশে বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও জানান তিনি।