এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ দেশের মানুষ আর কোনো স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক লোকের প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামী ঠিক এই ধরনের লোকই তৈরি করছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বরুনা বাজারে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ, বৈষম্য ও শোষণমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে ইসলামি শাসনের কোনো বিকল্প নেই। বিগত সরকার ‘উন্নয়ন’ আর ‘চেতনা’র নামে জাতিকে বিভক্ত করেছে, টাকা পাচার করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।’
জামায়াত নেতা বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, পাঁচ শতাধিক মানুষ পঙ্গু হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু চার দিনের মাথায়ই আল্লাহর বিচার হয়েছে, জুলাই বিপ্লবে ছাত্রদের সঙ্গে আমরাও ছিলাম, আর জালিমের পতন হয়েছে।’
পুনর্মিলনী উপলক্ষে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আজ উন্মুক্তভাবে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারছি। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। এখন সময় এসেছে ইসলামি তাকওয়ার ভিত্তিতে নিজেদের গড়ে তোলার এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে জয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে, তাই ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন কায়েম করা ছাড়া বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যেতে চায়, তবে সেই নির্বাচন হতে হবে যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে। আমরা ৩০০ আসনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আমীর মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী এবং পরিচালনায় ছিলেন সেক্রেটারি মাওলানা মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ, সেক্রেটারি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হিন্দু বিভাগের সহসভাপতি ডা. হরিদাস মণ্ডল, ছাত্রশিবির সভাপতি মফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার আব্দুর রশীদ, যুব বিভাগের সভাপতি বি এম আলমগীর হোসেন, আমানুল্লাহ, মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন, মাওলানা আবু জাফর মোল্যা, গাজী আব্দুস সাত্তার, মোস্তফা কামাল, আবদুল কাদের মোল্লা, গাজী খোরশেদ আলম, গাজী কামরুজ্জামান, বরুনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী গাজী প্রমুখ।