শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৩৪:২৯

বেতন ছাড়াও যেসব সুযোগ-সুবিধা পান সংসদ সদস্যরা

বেতন ছাড়াও যেসব সুযোগ-সুবিধা পান সংসদ সদস্যরা

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করা হয়। 

বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই আইনের সংশোধন হয়।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া অফিস পরিচালনার খরচ হিসেবে মাসিক ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ বেতনের বাইরে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচের জন্য আলাদা ভাতা নির্ধারিত আছে।

যানবাহনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। দায়িত্বকাল পাঁচ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় আবারও নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

ভ্রমণসংক্রান্ত সুবিধাও রয়েছে। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।

দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা প্রাপ্য হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সুবিধা রয়েছে। সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এ ছাড়া মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতা দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য। পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।

সবশেষে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— সংসদ সদস্যরা যে ভাতাগুলো পান, সেগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে