বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:২৭:৩৮

৪৯০ টাকা লোকসান প্রতি বস্তা আলুতে, অর্ধেকে নেমে এসেছে বিক্রি!

৪৯০ টাকা লোকসান প্রতি বস্তা আলুতে, অর্ধেকে নেমে এসেছে বিক্রি!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম না পেয়ে লাভের আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন জয়পুরহাটের চাষি ও ব্যবসায়ীরা। চার মাস পার হলেও দাম বাড়ার বদলে দিনদিন আরও কমছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার হিমাগার থেকে আলু বিক্রির হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে মূলধন ও হিমাগার ভাড়া তুলে আনা দূরের কথা, প্রতি বস্তা আলু বিক্রি করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে গড়ে ৪৯০ টাকা।

হিমাগার গেটে বর্তমানে ৬০ কেজির সাদা ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন জাতের এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায়। অথচ হিমাগার ভাড়াসহ এই এক বস্তা আলুর পেছনে কৃষকদের উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১,৪০০ টাকা।

কালাই উপজেলার বোড়াই গ্রামের চাষি রমজান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১০০ বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে ভাড়াসহ তাঁর মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। চার মাস পর সেই আলু বিক্রি করে তিনি হাতে পেয়েছেন মাত্র ৯৮ হাজার টাকা। ফলে লোকসানের ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনি। একই অভিযোগ পাঁচবিবি উপজেলার চাটখুর গ্রামের চাষি মজিবুর রহমান ও কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের কৃষক কাউছার আলীর। আক্ষেপ করে তারা জানান, মৌসুমে আলুর দাম কম ছিল। পরে বিক্রি করলে লাভ হবে, সেই আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন। এখনও দাম কম, তাই বিক্রি করতে পারছেন না। সংকট নিরসনে তারা আলু বিদেশে রপ্তানি করতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার টন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর কম। ২২টি হিমাগারে মোট দুই লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ টন আলু মজুত করা হয়েছিল। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হিমাগারগুলোর মাত্র ২০ শতাংশ আলুও বিক্রি হয়নি। যেখানে গত বছর এই সময়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ আলু খালাস হয়েছিল।

বর্তমানে আমন ধানের মৌসুম চলায় খেতের খরচ জোগাতে সাধারণত এই সময়ে কৃষকরা কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বিক্রি করেন। কিন্তু বাজারে চাহিদা ও দাম না থাকায় তারা আলু তুলতে পারছেন না, যা আমন চাষের অর্থসংস্থানে বড় সংকট তৈরি করেছে।

দেশের অন্যান্য মোকামে আলুর চাহিদা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলু ব্যবসায়ীরাও। কালাই উপজেলার পুনট হাটের আলু ব্যবসায়ী মিঠু ফকির ও গোলাম মোস্তফা জানান, কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর পর দেখা যাচ্ছে প্রতি ট্রাকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে। লোকসানের মুখে অনেকেই এখন আলু কেনাবেচা বন্ধ রেখেছেন।

একই শঙ্কায় রয়েছেন হিমাগার মালিকরা। কালাইয়ের পুনট কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার জানান, তাদের হিমাগারে রাখা আড়াই লাখের বেশি বস্তা আলুর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৪৫ হাজার বস্তা খালাস হয়েছে। দাম কম থাকায় কৃষকরা আলু বিক্রি করতে আসছেন না, ফলে হিমাগারের ভাড়ার টাকা আদায় নিয়েও তারা চিন্তিত।

টানা কয়েক বছর লোকসানের মুখে পড়া কৃষকরা এখন আলু বিদেশে রপ্তানি করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। তবে আলুর দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কিছুটা কমেছে। তবে আলুর বাজার সচল করতে ও যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে